Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কার্শিয়াংয়ের জঙ্গলে ক্যামেরাবন্দি ব্ল্যাক প্যান্থার যুগল! আলোড়ন বনদপ্তরে, গবেষণা শুরু

ফের দেখা মিলল ব্ল্যাক প্যান্থার বা কালো চিতাবাঘের—একসঙ্গে দুটির।

কার্শিয়াংয়ের জঙ্গলে ক্যামেরাবন্দি ব্ল্যাক প্যান্থার যুগল! আলোড়ন বনদপ্তরে, গবেষণা শুরু
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফের দেখা মিলল ব্ল্যাক প্যান্থার বা কালো চিতাবাঘের—একসঙ্গে দুটির। সেই যুগলের ছবি ঘিরে আলোড়ন পড়েছে বনদপ্তরের কার্শিয়াং ডিভিশনে। রবিবার ওই জোড়া কালো চিতাবাঘের ছবি প্রকাশ্যে এনেছ বনদপ্তর। তারা সেগুলির লিঙ্গ নির্ধারণ করতে একটি টিমও গঠন করেছে। এদিকে, শুধু কালো চিতাবাঘ নয়, কার্শিয়াংয়ের জঙ্গলে ‘মেলানিস্টিক’ বেশকিছু প্রজাতির প্রাণীর দেখা মিলেছে। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে ‘গবেষণা’ শুরু করেছে বনদপ্তরের কার্শিয়াং ডিভিশন। তারা বন্যপ্রাণীদের রক্ষায় সচেতনতামূল প্রচার অভিযানেও নেমেছে।

Advertisement

বছরখানেক আগে কার্শিয়াংয়ের জঙ্গলে দেখা মিলেছিল কালো চিতাবাঘের। সেই ঘটনার পর এবার সংশ্লিষ্ট জঙ্গলের বাগোড়ায় জোড়া কালো চিতাবাঘের ছবি ধরা পড়েছে বনদপ্তরের ট্র্যাপ ক্যামেরায়। বনদপ্তর সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে সেই এলাকায় বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথে বসানো হয় ২০টি ক্যামেরা। রবিবার সংশ্লিষ্ট ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করতে গিয়ে জোড়া কালো চিতাবাঘ নজরে পড়ে বনদপ্তরের আধিকারিকদের। সেই ছবি দেখে সেগুলির লিঙ্গ বোঝা সম্ভব নয়। তা হলেও মনে হচ্ছে সেগুলি স্ত্রী ও পুরুষ। এই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তারা জঙ্গলের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ক্যামেরার ফুটেজ, প্রাণীদের বিষ্ঠা, গায়ের লোম প্রভৃতি সংগ্রহ করবে। তা পরীক্ষানিরীক্ষা করেই সেগুলির লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পান্ডে বলেন, জোড়া ‘মেলানিস্টিক লেপার্ডের’ দেখা মেলার ঘটনাটি ইঙ্গিতবহ। এর থেকেই মনে হচ্ছে, এই জঙ্গলে মেলানিস্টিক প্রজাতির চিতাবাঘের বংশবৃদ্ধি হয়েছে। এই বিষয়ে আমাদের টিম কাজ করছে। ওই জোড়া লেপার্ডের লিঙ্গনির্ধারণের চেষ্টাও চলছে। কোনো কোনো প্রাণীর শরীরে মেলানিন রঞ্জকের আধিক্যের ফলে সেই প্রাণীটির চামড়া ও লোম কালো রঙের হয়ে যায়। কালো রঙের চিতাবাঘ (আফ্রিকা এবং এশিয়ায়) ও জাগুয়ারকেই (লাতিন আমেরিকায়) সাধারণত ব্ল্যাক প্যান্থার বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

দার্জিলিং জেলায় বনদপ্তরের ডিভিশনগুলির মধ্যে কার্শিয়াং অন্যতম। সমতল থেকে এর উচ্চতা প্রায় চার হাজার ফুট। বনদপ্তর সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ডিভিশন প্রায় ১৬০ বর্গ কিমি এলাকাজুড়ে। রেঞ্জ আটটি। এখানে পাইনের পাশাপাশি, অর্কিড, রডোডেনড্রন ফুলসহ বিভিন্ন ধরনের ফুলগাছ রয়েছে। ইতিমধ্যে এই জঙ্গলে ব্ল্যাক হরিণ, ব্ল্যাক ট্যারেন্টুলাসহ বিভিন্ন ধরনের মেলানিস্টিক প্রাণীর হদিশ মিলেছে। কার্শিয়াংয়ের ডিএফও বলেন, জিনগত এবং অন্যান্য কারণে এখানকার প্রাণীদের গায়ের রং কালো হতে পারে। যদিও কারণটা এখনো স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে স্থানীয়ভাবে গবেষণা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ