সুদীপ পাল, মানকর: সুপারফাস্টের তকমা হারাচ্ছে ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে ট্রেনটি সাধারণ এক্সপ্রেস হিসেবে হাওড়া থেকে ধানবাদ আসা-যাওয়া করবে। বদলে যাচ্ছে ট্রেনের নম্বরও। তবে নম্বর পরিবর্তন হলেও আপাতত সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
ধানবাদ ও হাওড়াগামী যাত্রীদের অত্যন্ত পছন্দের ট্রেন ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস। বর্তমানে ২২৩৮৭ নম্বরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ হাওড়া থেকে ছাড়ে এই ট্রেন। ব্যান্ডেল, বর্ধমান, দুর্গাপুর, আসানসোল হয়ে ধানবাদে পৌঁছায় ১১টা ১৮ মিনিটি নাগাদ। ফেরার পথে ২২৩৮৮ নম্বরে ধানবাদ থেকে ছাড়ে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে। একই পথে হাওড়া পৌঁছায় রাত্রি ৯টা ৩০ মিনিট নাগাদ। সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি প্রতিদিন বহু নিত্যযাত্রী এই ট্রেনের ভরসায় গন্তব্যে যান। নিত্যযাত্রীরা জানান, ১৯৬৪ সালে এই ট্রেনের পথ চলা শুরু হয়। তখন এটি ‹হাওড়া-আসানসোল ফাস্ট প্যাসেঞ্জার› হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ওই বছরই ট্রেনটির যাত্রাপথ ধানবাদ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয় এবং নাম দেওয়া হয় ‹ধানবাদ এক্সপ্রেস›। ১৯৭০ সালের দিকে কয়লা খনি অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠায় ট্রেনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‹ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস›। ২০১৩ সালে এই ট্রেনটিকে আপগ্রেড করা হয়। নম্বর পরিবর্তন করে সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস হিসেবে চলতে শুরু করে। এবার রেলের সিদ্ধান্ত নতুন বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ট্রেনটি আবার সাধারণ নন-সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন হিসেবে পুনর্নির্ধারিত হবে। ট্রেন নম্বর বদলে যথাক্রমে ১৩৩৮৭ হাওড়া-ধানবাদ ও ১৩৩৮৮ ধানবাদ-হাওড়া করা হবে। ফলে নতুন বছর থেকে যাত্রীদের আর অতিরিক্ত সুপারফাস্ট চার্জ দিতে হবে না।মানকরের ট্রেন যাত্রী গৌরাঙ্গ হালদার বলেন, ট্রেনের উপরে নির্ভর করে প্রতিদিন রানিগঞ্জে ডিউটি ধরি। বহু নিত্যযাত্রী হাওড়া থেকে যাতায়াত করেন। সুপারফাস্টের তকমা হারালেও ট্রেনের সময়ে পরিবর্তন হয়নি। ফলে যাত্রীরা আগের মতোই পরিষেবা পাবেন বলে মনে করি। তবে এতে ভাড়ার টাকা কম লাগবে। যাত্রীরা বলেন, সুপারফাস্ট ট্রেনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মূল টিকিটের ভাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত সুপারফাস্ট সারচার্জ দিতে হয়। সিট সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সেই চার্জ দিতে হয়। কিন্তু ট্রেনটি সাধারণ এক্সপ্রেসের মর্যাদা পেলে যাত্রীদের আর অতিরিক্ত চার্জ আর দিতে হবে না। এই ট্রেনের যাত্রী অঙ্কন চৌধুরী বলেন, ভাড়া কমায় ট্রেনে আরও ভিড় বাড়বে। ট্রেন সময়ে চলুক এটাই চাই। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, জনপ্রিয় এই ট্রেনটিতে আরও অধিক যাত্রী টিকিট কেটে যাবেন।



