Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বকেয়া টাকা না পেয়ে সহকর্মীকে কাঁচি দিয়ে   কুপিয়ে খুন, ডোমজুড়ে ধৃত ঝাড়খণ্ডের যুবক

বকেয়া টাকা না পেয়ে সহকর্মীকে কাঁচি দিয়ে   কুপিয়ে খুন, ডোমজুড়ে ধৃত ঝাড়খণ্ডের যুবক
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বহুবার চাইলেও প্রাপ্য টাকা না মেলায় মেজাজ হারিয়ে কাঁচি দিয়ে সহকর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল হাওড়ার বাঁকড়ায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকড়ার মণ্ডলপাড়ায় একটি চেয়ার তৈরির কারখানায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে বছর তিরিশের জর্জিস আনসারির। ধস্তাধস্তির সময় কাঁচির ফলায় জখম হয়েছে অভিযুক্ত ফৌম আনসারি। পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, জর্জিস ও ফৌম দু’জনের বাড়িই ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে। মাসখানেক আগে জর্জিস বাঁকড়ার ওই কারখানায় কাজে যোগ দেয়। পরে গ্রামের বন্ধু ফৌমকেও তিনি নিয়ে আসেন কাজের জন্য। ফৌম বাঁকড়ায় জর্জিসের অধীনেই কাজ করত। সারাদিন কাজের পর রাতে তাঁরা কারখানার ভিতরেই ঘুমতেন। পুলিস জানিয়েছে, জর্জিসের কাছ থেকে মজুরি বাবদ কিছু টাকা পেত ফৌম। সে ওই টাকা বারবার চাইলেও জর্জিস নানা বাহানায় এড়িয়ে যেতেন। এ নিয়ে দু’দিন ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে কারখানার অন্যান্য কর্মীরা বাড়ি চলে যাওয়ার পর ফৌম ফের পাওনা টাকার দাবিতে চিৎকার চেঁচামেচি করে। পরে তা চরমে পৌঁছয়। সেই সময় মেজাজ হারিয়ে ফৌম একটি বড় কাঁচি দিয়ে কোপ বসায় জর্জিসের মাথায়। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ওই অবস্থায় তিনি প্রতিরোধের চেষ্টা করলে হাতে চোট পায় ফৌম। চিৎকার আর আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে দু’জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় কারখানার ভিতরে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর দেওয়া হয় ডোমজুড় থানায়। 
পুলিস জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে জর্জিসের। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আহত ফৌমকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবশ্য প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দারা। পুলিসের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ফৌম জানায়, বাইরে থেকে দুষ্কৃতীরা এসে তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে গিয়েই নাকি জর্জিসের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ফৌমের কথাবার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল গোয়েন্দাদের। এরপর কারখানা ও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন, ফৌমই তার সহকর্মীকে খুন করেছে। হাওড়ার পুলিস কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী বলেন, ‘বকেয়া টাকা না পাওয়ায় অভিযুক্ত যুবক তার সহকর্মীকে খুন করেছে। সে প্রথমে গল্প সাজিয়ে গোয়েন্দাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। পরে নিজেই সবটা স্বীকার করে নিয়েছে।’ হাওড়া সিটি পুলিস কারখানাটি সিল করে দিয়েছে। এদিন সকালে সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেন্সিক দলের সদস্যরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ