Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

বকেয়া না মেটালেও বাংলার উন্নয়ন রুখতে পারবে না কেন্দ্র, হুঁশিয়ারি অভিষেকের

বকেয়া না মেটালেও বাংলার উন্নয়ন রুখতে পারবে না কেন্দ্র, হুঁশিয়ারি অভিষেকের
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে লোকসভায় সরকারকে সমালোচনার শূলে চড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি সরকারের এবারের বাজেটকে মরীচিকা, প্রতারণা, বাংলা বিরোধী বলে তোপ দাগলেন। রাজ্যের বকেয়া ইস্যুতে সরব হয়েও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লোকসভায় উপস্থিত অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে শুনিয়ে দিলেন, বকেয়ার জন্য ভিক্ষে করব না। ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা পাওনা। তাও পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের খরচে বাংলার মানুষের পাশে থাকতে কর্মশ্রী প্রকল্প শুরু করেছে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে গরিবদের মাথায় দিচ্ছে ছাদ। একেই বলে আত্মনির্ভরতা। তাই কেন্দ্র বকেয়া না মেটালেও বাংলার উন্নয়ন কেউ রুখতে পারবে না। 
Advertisement
বাজেট বিতর্কের শুরুতে সভায় ছিলেন না অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।  বিষয়টি উল্লেখ করে সরব হন ডিএমকের দয়ানিধি মারান, কংগ্রেসের গৌরব গগৈ। কংগ্রেসের বক্তা ধরমবীর গান্ধীকে থামিয়ে দিয়ে তাঁরা প্রতিবাদে ওয়েলের সামনে চলে আসেন। স্পিকারের আসনে তখন বিজেপির দিলীপ শইকিয়া। তিনি বলেন, অর্থ রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী তো রয়েছেন। মূল মন্ত্রীকে থাকতেই হবে, এমন কোনও বিধি নেই। পাল্টা সরব হন বিরোধীরা। বিধি না হলেও প্রথা, পরম্পরা যে বাজেট বিতর্কের শুরুতে অর্থমন্ত্রী থাকেন। সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজুও ঢাল ধরার চেষ্টা করেন। আসেন স্পিকার ওম বিড়লা। কিন্তু বিরোধীরা চাপ বাড়াতে থাকেন। শেষে নির্মলা আসতে বাধ্য হন। 
অভিষেক বলেন, এবারের বাজেট রামায়নণের মারীচ পর্বের মতো। সোনার হরিণের পিছনে ছোটা। আদতে ভ্রম ছাড়া কিছুই নয়। ফাঁপা বাজেট। প্রকৃত সলিউশন কিছু নেই। আছে স্রেফ ইলিউশন। অর্ধসত্য, অর্ধ দায়িত্ববোধ, অর্ধ প্রতিশ্রুতি পালনের বাজেট। অভিষেকের গুগলি, বিহারের এনডিএ শরিক জেডিইউয়ের সাংসদ সংখ্যা ১২। আবার বাংলাতেও বিজেপি ১২। অথচ বাজেটে বিহার পেল। বাংলা নয়। বিহারের জন্য ভুরি ভুরি আর বাংলার জন্য বঞ্চনা। 
কৃষকের উপার্জন দ্বিগুণ, বছরে দু’ কোটি চাকরি, মেক ইন ইন্ডিয়ার নামে আত্মনির্ভরতার স্লোগান তুলেও চীন থেকে আমদানি বাড়ছে। অভিষেকের উপহাস, বিজেপি মানে ভাষণ, জুমলা, প্রপাগন্ডা। এনডিএ মানে নট ডেলিভারিং এনিথিং। মজার ব্যাপার হল, সব বিষয়ে ট্যাক্স লাগলেও বিজেপির মিথ্যাচারে কোনও কর নেই। অভিষেকেরই সুরে দলের অন্য বক্তা শতাব্দী রায়ের সমালোচনা, সরকার বলছে গরিব কমছে। মিথ্যে বলছে। গরিব কমলে রাস্তায় সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়ালে কেন দেখতে হয় বাচ্চারা ভিক্ষে করছে? 
অভিষেকের বক্তব্য শুনে নিজের আসন থেকে উঠে এসে করমর্দন করে বাহবা দিলেন সমাজবাদী সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ