নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোন সম্প্রদায়ের ভোট কার দিকে বেশি গিয়েছে তা নিয়ে চর্চা চলছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভায় ব্যাপক হারে ভোট বাড়ল বিজেপির। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রে এমনই চিত্র উঠে এসেছে। ২০২১ সালের তুলনায় এবার কোথাও পাঁচ হাজার, কোথাও ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোট বেড়েছে পদ্ম পার্টির। মগরাহাট পশ্চিম থেকে বাসন্তী, কুলপি থেকে মেটিয়াবুরুজ। সর্বত্র বিজেপির উত্থান হয়েছে। বিজেপি নেতা সুফল ঘাঁটু বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাজে সন্তুষ্ট হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। তিনি তো আলাদা করে কারও জন্য প্রকল্প চালু করেননি। সবাই যাতে সুবিধা পায়, সেটাই লক্ষ্য ছিল তাঁর। সংখ্যালঘু মানুষ মোদিজির উন্নয়নে শামিল হতে চাইছেন, সেই ভাবনাকে সাধুবাদ জানাই।
বাসন্তী বিধানসভায় বড়ো সংখ্যক মুসলিম ভোটার রয়েছেন। এই কেন্দ্রে ২০২১ সালে বিজেপি ৬০ হাজারের মতো ভোট পেয়েছিল। সেটা বেড়ে ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বারুইপুর পূর্বের বহু পঞ্চায়েত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। তারপরও এখানে গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার বিজেপির ঝুলিতে পড়েছে অতিরিক্ত প্রায় ১৬ হাজার ভোট। মগরাহাট পশ্চিমের মতো বিধানসভায় পাঁচ হাজারের বেশি ভোট বাড়াতে সক্ষম হয়েছে গেরুয়া শিবির। মেটিয়াবুরুজেও এবার ভোট বেড়েছে পদ্ম পার্টির। তব ব্যতিক্রম হয়ে রইল ক্যানিং পূর্ব। এই কেন্দ্রে বিজেপির ভোট গতবারের চেয়ে কমেছে। শুধু তাদের নয়, আইএসএফের প্রাপ্ত ভোটের হারও কমেছে এখানে। এই বিধানসভায় একমাত্র তৃণমূলের কাছে বড়ো প্রাপ্তি হয়েছে। কারণ গতবার শওকত মোল্লা যা ভোট পেয়েছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়ে জিতেছেন বাহারুল ইসলাম। আরো একটি ফ্যাক্টর যেটা চোখে পড়েছে এবারের ফলাফলে, সেটা হল আইএসএফ ক্রমশ থাবা বসাতে শুরু করেছে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে। ২০২১ সালে তৈরি হওয়ার পর ভাঙড় ছাড়া সেভাবে কোথাও প্রভাব ফেলতে পারেনি আইএসএফ। তবে এবার ভাঙড় জেতার পাশাপাশি ক্যানিং পশ্চিম, বাসন্তী, কুলপির মতো কেন্দ্রে ভালো রকম ভোট পেয়েছে তারা।