Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রিকশ স্ট্যান্ডেও বিজেপির ‘তোলাবাজি’? পদ্ম প্রতীকের সাইনবোর্ডে নতুন রেট কার্ড বিজয়গড়ে

এবার আর কোনো লুকোচুরি নেই। রিকশ চালাতে গেলে মাসে কত টাকা দিতে হবে, ‘লাইনে’ রিকশ নামাতে গেলে কত টাকা লাগবে, রীতিমতো তার রেট কার্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়ে

রিকশ স্ট্যান্ডেও বিজেপির ‘তোলাবাজি’? পদ্ম প্রতীকের সাইনবোর্ডে নতুন রেট কার্ড বিজয়গড়ে
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার আর কোনো লুকোচুরি নেই। রিকশ চালাতে গেলে মাসে কত টাকা দিতে হবে, ‘লাইনে’ রিকশ নামাতে গেলে কত টাকা লাগবে, রীতিমতো তার রেট কার্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়ে। ওই বোর্ডে রয়েছে বিজেপি দলের প্রতীক পদ্মফুল। ইউনিয়নের নাম ‘জাতীয়তাবাদী রিস্কা ইউনিয়ন’ (বানান অপরিবর্তিত)। যাদবপুরের বিজয়গড় পূর্বাচল ক্লাবের সামনের রিকশ স্ট্যান্ডে ভাড়া সম্বলিত নতুন বোর্ডে এই তালিকা টাঙানো।

Advertisement

রেট চার্ট ছাড়াও জনহিতকর নানা রকমের নিয়ম সেখানে রয়েছে। যেমন, ১০ বছরের বাচ্চার পুরো ভাড়া লাগবে, গাঁজা-মদ খেয়ে রিকশ চালানো যাবে না। তার সঙ্গে রয়েছে, পুরানো তিন-চারজন রিকশচালককে পুনরায় কাজ করতে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা লাগবে। জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে মাসিক ১০০ টাকা ‘চাঁদা’ বাধ্যতামূলক। তিন মাস টানা চাঁদা না দিতে পারলে আবার ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এই জটিল অঙ্কের হিসাব বুঝেই রিকশচালকরা কাজ চালাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই রুটের এক রিকশচালক বলছিলেন, ‘বিজেপির লোকেরা নতুন কমিটি তৈরি করেছেন। আগে রিকশ চালাত এরকম লোক ফিরে আসতে চাইলে, তাঁদের জন্য ২ হাজার টাকা ধার্য করেছে। সেখানেও আবার সকলকে মনে হয় নেবে না। আমরা যাঁরা চালাচ্ছি, আমাদের জন্য মাসে ১০০ টাকা।’ তৃণমূল আমলে কত ছিল? আর এক রিকশচালক বলছিলেন, ‘তখন মাসে ৩০ টাকা দিতে হত। নতুন ভাড়ার তালিকাতেও ৩-৪ টাকা করে বাড়িয়েছে।’ একদম নতুন রিকশ নামাতে গেলে কত টাকা লাগবে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কোনো চালকের কাছেই নেই। কেউ কেউ বললেন, ‘আরও বেশিই লাগবে বোধ হয়।’
বিজেপির বড়ো বড়ো নেতারা ক্রমাগত ‘তোলাবাজি’র বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, ‘এই সংস্কৃতি কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না।’ বিজয়গড় দেখাচ্ছে, বাস্তব চিত্রটা অন্যরকম। সিপিএম নেতা সুদীপ সেনগুপ্ত বলছেন, ‘কয়েক বছর আগে সিআইটিইউ’র বোর্ড সরিয়ে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের বোর্ড বসেছিল। এখন সেই তৃণমূলের লোকেরাই কোথাও বিএমএস, কোথাও নানা রকম সংগঠনের নামে বোর্ড বসিয়েছে। বিজয়গড়ে তো একেবারে রেট চার্ট বসানো। এটা নজিরবিহীন ঘটনা। শুধু বিজয়গড় নয়, এই এলাকায় আরও বিভিন্ন রিকশ-অটো স্ট্যান্ডে এসব শুরু হয়েছে। তৃণমূলের আমলেও নতুন রিকশ চালাতে গেলে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা, যার যেমন ইচ্ছা তেমন টাকা নিত। কোনটা মুখ আর কোনটা মুখোশ, বোঝা দায়।’ এই বিষয়ে যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই নোটিসের ছবি পাঠান। আমি বিষয়টা জেনে নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছি।’ ওই ছবি পাঠানোর বেশ কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে ফোন করা হলেও তাঁর উত্তর পাওয়া যায়নি। মফস্‌সল থেকে শহরে আসা রিকশচালকরা সরব। তাঁরা বলছেন, ‘মালিকের রিকশ চালাই, উপরন্তু চাঁদা দিতে হচ্ছে। আমাদের পকেটের টান তো বাড়তেই থাকছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ