


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলায় ফের প্রকাশ্যে এল বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। পার্টি অফিস কাদের দখলে থাকবে, তা নিয়েই চরমে উঠেছে দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব। ঘটনাটি হাড়োয়া ২ নম্বর মণ্ডলের দেগঙ্গা বাজারের। যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা মানতে নারাজ বিজেপি।
জানা গিয়েছে, ভোটাভুটির মাধ্যমে বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত হাড়োয়া ২ নম্বর মণ্ডলে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অরবিন্দ বিশ্বাস। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, দলের নিয়ম না মেনেই অরবিন্দকে সভাপতি করে দেওয়া হয়েছে। এই দাবি তুলে সপ্তাহখানেক আগে দেগঙ্গা বাজারের বিজেপির মণ্ডল কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন কর্মীরা। এনিয়ে টানাপোড়েন চলছিলই। সেই আবর্তে বৃহস্পতিবার কার্যালয়টি খোলেন মণ্ডল সভাপতি অরবিন্দবাবু ও তাঁর লোকজন। রাতেই বিক্ষুব্ধ কর্মীদের একাংশ ফের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, সহজে যাতে সেই তালা না খোলা যায়, তার জন্য গালা দিয়ে সিল করেও দেওয়া হয়। এতকিছুর পর শুক্রবার সকালে ফের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন মণ্ডল সভাপতি। দলীয় কাজকর্ম সেরে তাঁরা কার্যালয়ে তালা দিয়ে চলে যান।
বিজেপি নেত্রী অঞ্জলি মজুমদার বলেন, ‘মণ্ডল সভাপতির ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। আমরা দলের কথা ভেবেই কার্যালয়ে তালা দিয়েছিলাম। সমস্ত বিষয়টি নিয়ে থানায়ও অভিযোগ করা হয়েছে।’ অরবিন্দবাবু বলেন, ‘গোটা বিষয়টি দলকে জানানো হয়েছে। কার্যালয়টি আমাদের দলের। তাই আমি সভাপতি হিসেবে ওখানে গিয়ে সমস্ত কাজকর্ম সেরেছি। তারপর তালা দিয়ে চলে এসেছি। দলের বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত চলছে।’
বিজেপির এই কোন্দলকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। দেগঙ্গা ব্লকের তৃণমূল সভাপতি আনিসুর রহমান (বিদেশ) বলেন, ‘আসলে বিজেপি নেতারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই ব্যস্ত। আগামীতে বিজেপির পার্টি অফিসে বসার লোক থাকবে না। আর ওরা যেভাবে বাংলার অবমাননা করছে, তাতে মানুষ এবার এলাকাছাড়া করবে।’ নিজস্ব চিত্র