রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: নির্বাচনের প্রাক্কালে ‘প্রার্থী-সংকটে’ বঙ্গ বিজেপি। দু’দফায় এ পর্যন্ত ২৫৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির। আর প্রথম তালিকা প্রকাশের দিন থেকেই পার্টির অন্দরে দাউ দাউ করে জ্বলছে অসন্তোষের আগুন। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সর্বত্র প্রার্থী বদলের দাবিতে ‘ঘরের কোন্দল’ রাস্তায় নেমেছে। শুক্রবার বিজেপির সদর কার্যালয়ে কর্মী-সমর্থকদের ঘেরাওয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে খোদ কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে ওইদিনই জরুরি বৈঠক ডাকেন নির্বাচনি পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব। সেখানে হাজির ছিলেন রাজ্য বিজেপির তাবড় শীর্ষ নেতৃত্ব। পাঁচ বছর আগে বিজেপির মতো রেজিমেন্টেড পার্টিতে এই ধরনের আচরণে অভিযুক্ত নেতাদের সরাসরি সাসপেন্ড করার নজির রয়েছে। দলের পরিচিত মুখ রীতেশ তিওয়ারিকে এমন অভিযোগে অর্ধদশক ‘বসিয়ে দেওয়া’ হয়েছিল। কিন্তু এবার আচমকাই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। কারণ আর সাসপেনশন নয়, ‘উচ্ছৃঙ্খল’ নেতা-কর্মীদের জন্য স্থির হয়েছে ‘জামাই আদর’। ভূপেন্দ্র যাদব ওই বৈঠকে সাফ জানিয়েছেন, ‘বিক্ষুব্ধদের জন্য খাবার-জল-টিফিনের ব্যবস্থা করতে হবে। ওরা পার্টির লোক। ওদের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। কোনোভাবেই দুর্ব্যবহার করা যাবে না।’ ‘পার্টি উইথ ডিফারেন্স’ স্লোগান তোলা দলের এই বঙ্গীয় কাঠামো বদলের নেপথ্য রহস্য কী?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য বিজেপির এক নেতা বলেন, ‘সাংগঠনিক দিক থেকে এখনও আমরা যথেষ্ট নড়বড়ে। জেলায় জেলায় যোগ্য কর্মীর অভাব রয়েছে। তাঁদের একাংশ প্রার্থী বদলের দাবিতে জোরালো আন্দোলন শুরু করেছেন। বিধানসভা ভোটের আগে পার্টির সংবিধান মেনে পদক্ষেপ নিলে শো-কজ কিংবা সাসপেন্ড করা ছাড়া বিকল্প পথ নেই। তাতে কিন্তু দল সর্বত্র আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই সাসপেশনের বদলে তোষামোদের ফরমুলা রাজ্যের সর্বত্র কার্যকর করার নিদান এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকে ভূপেন্দ্র যাদবের নির্দেশ, রাজ্য অফিসে সর্বক্ষণ এই ধরনের বিক্ষুদ্ধদের কথা বিনম্রভাবে শুনতে হবে। আলোচনার জন্য গঠন করতে হবে বিশেষ টিম। রাজ্য বিজেপির একগুচ্ছ ডিপার্টমেন্ট ও সেল থেকে একজন করে সদস্য সেই টিমে থাকবেন।’ নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় নির্বাচনি কমিটির অনুমোদিত প্রার্থীদের বিরোধিতা যাঁরা করছেন, তাঁদের জন্য এই ‘আতিথেয়তা’র কৌশল ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতাদের এই সিদ্ধান্ত রাজ্য কমিটির একাধিক শীর্ষ পদাধিকারী মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের বক্তব্য, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। অনুশাসন শিকেয় উঠবে।
যদিও দিল্লির নেতাদের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে, ‘বিদ্রোহী’দের জন্য এলাহি আয়োজনে কোনো কার্পণ্য চলবে না। তার জন্য পৃথক খাতে পর্যাপ্ত অর্থের ধারাবাহিক জোগান চালিয়ে যাওয়া হবে। অমিত শাহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। স্বভাবতই পদ্ম শিবিরের নয়া এই কৌশলে পার্টির ‘চাণক্য’র প্রভাব দেখছেন অনেকে।