সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: দলের নেতারা মুখে অন্যকথা বললেও সংখ্যালঘু ভোট যে বিজেপির দরকার, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সংখ্যালঘু মোর্চা কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে তা পরিষ্কার। রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে গেলে যে সংখ্যালঘুদের মন পেতে হবে, ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছে বিজেপি নেতারা। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ২২ জনের সংখ্যালঘু মোর্চা কমিটি ঘোষণা করেছে পদ্মপার্টি। এই জেলায় কয়েকটি বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটের হার অনেকটাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চাও ঘর গোছাতে চাইছে। যদিও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বহু বুথে এখনো পর্যন্ত সংগঠন মজবুত করতে পারেনি পদ্মপার্টি। গত বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটেও বহু বুথে এজেন্ট খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। দলীয় সূত্রে খবর, সংখ্যালঘু বুথে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এখনো অসম্পূর্ণ।
শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, মেরুকরণের রাজনীতি করে বিজেপি সংখ্যালঘুদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। পারবেও না। তাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় দেওয়াল লিখন বা প্রচারেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
যদিও বিজেপির দাবি একেবারে ভিন্ন। সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের সংগঠন আগেও ছিল। আমরা আরো সংগঠিত এবং সক্রিয় হয়েছি। মণ্ডলভিত্তিক কমিটি গঠন দ্রুত সম্পূর্ণ হবে। এবারের ভোটে ৯০ শতাংশ সংখ্যালঘু বুথে দলের পোলিং এজেন্ট থাকবে বলে দাবি করেছেন মোর্চার জেলা সভাপতি। শরিফুলের দাবি, কিছু জায়গায় দেওয়াল লিখনে বাধা এলেও তা সাময়িক। সংগঠন দ্রুত বিস্তার লাভ করবে।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, বিজেপির নীতি ও আদর্শ সংখ্যালঘু বিরোধী। তাই জেলার একজন সংখ্যালঘু মানুষও তাদের পাশে দাঁড়াবে না।
নির্বাচনের মুখে কিছু সংখ্যালঘু মুখ সামনে আনা আর বাস্তব সমর্থন এক জিনিস নয়। সংখ্যালঘুরা জানে কারা তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির এই উদ্যোগ নিছক সংগঠন বিস্তার নয়, বরং ভোটের অংকে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যেখানে দীর্ঘদিন সংগঠনের ভিত দুর্বল, সেখানে নির্বাচনের ঠিক আগে ঘোষিত কমিটি কতটা কার্যকর হবে? সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথে আদৌ কি সংগঠন দাঁড় করাতে পারবে বিজেপি, নাকি এটি কেবল নির্বাচনী কৌশল হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে? সেই উত্তর মিলবে ভোট-বাক্সে।