Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষক নেতাকে বহিষ্কার বিতর্কে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি

দলবিরোধী কাজের অভিযোগ এনে বিজেপির কিষান মোর্চার সভাপতিকে বহিষ্কার করলেন দলের মণ্ডল সভাপতি

কৃষক নেতাকে বহিষ্কার বিতর্কে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: দলবিরোধী কাজের অভিযোগ এনে বিজেপির কিষান মোর্চার সভাপতিকে বহিষ্কার করলেন দলের মণ্ডল সভাপতি। তবে,  মণ্ডল সভাপতির এভাবে বহিষ্কারের এক্তিয়ার রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন ওই কৃষক নেতা। এনিয়ে খড়গ্রাম ব্লকে বিজেপির অন্দরে তোলপাড় চলছে। রাজনৈতিক মহল অবশ্য বলছে, এটি বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। 

Advertisement

শনিবার রাতে খড়গ্রাম ব্লকের বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি তাপসকুমার মণ্ডল সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন। সেখানে দলবিরোধী কাজ করা ও নেতৃত্বকে সম্মান না করার কারণে ২ নম্বর কিষান মোর্চার সভাপতি উৎপল ঘোষকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। উৎপলের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, দলের জেলা সভাপতির নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে উনাকে দলের সমস্ত কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
বহিষ্কারের কারণ ব্যাখ্যা করে মণ্ডল সভাপতি সংবাদ মাধ্যমের সামনে মণ্ডল কমিটির রেজ্যুলেশনরে দু’টি পাতাও প্রকাশ করেন। তার প্রথমটি হল গত ২ জুলাইয়ের। সেখানে লেখা হয়েছে, ওই কৃষক নেতার আচরণ ভাল ঠেকছে না। উনাকে শোকজ করা হল। আগামী সাত দিনের মধ্যে কাছে জবাবদিহি করা হয়েছে। পরের পাতাটি গত ২৮ আগস্টের। সেখানে লেখা, দলবিরোধী কাজ, দলীয় কার্যকর্তাদের সম্মান না করা, এক্তিয়ারের বাইরে ক্ষমতা প্রয়োগ করা ও হায়ার অথরিটিকে না জানিয়ে অফিসে যাওয়ার কারণে উৎপলকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এই রেজ্যুলেশনের পাতায় দলের ১৪ জন কর্মকর্তার সই রয়েছে। মণ্ডল সভাপতি বলেন, ‘মণ্ডল কমিটির সভায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাছাড়াও দলের জেলা সভাপতির নির্দেশক্রমে এটা করা হয়েছে।’
তবে, মণ্ডল কমিটির সিদ্ধান্তকে মোটেও পাত্তা দিতে চাইছেন না কৃষক নেতা উৎপল। তিনি বলেন, ‘বহিষ্কারের কোনো চিঠি আমি পাইনি। তাছাড়া একজন মণ্ডল সভাপতির বহিষ্কারের কোনো এক্তিয়ারই নেই। আসলে, আমার পরে উনি এই পদে এসেছেন। তাই দলের নিয়ম সম্পর্কে কিছুই জানেন না। আমাকে জেলা সভাপতি পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন দলের হয়ে কাজ করে যেতে। আমি সেই মতো কাজ  করব। আসলে, আমি প্রতিটি সময় মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এলাকায় আমার প্রভাব বেড়ে চলেছে। যেটা মণ্ডল সভাপতির সহ্য হচ্ছে না।’ এদিকে, এই ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অনেকে একে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলেও মনে করছেন। আবার অনেকে এমন ঘটনায় দলের ক্ষতি হল বলে জানিয়েছেন। এনিয়ে দলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জলা সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘এই সময় আমি খড়গ্রাম বিধানসভা এলাকাতেই রয়েছি। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কীভাবে কী হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ