বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: প্রভু জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। আর তাকে ঘিরে কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত কামারহাটির বিজেপি নেতৃত্ব। সমাজমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কারণ, কামারহাটির রথতলায় বাহুবলী সোমনাথ রায়চৌধুরী ওরফে বাবু মণ্ডলের উদ্যোগে হওয়া জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায় হাজির ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। এনিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের কাছেও লকেটদেবীর উপস্থিতির ভিডিয়ো ও ছবি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদিও লকেটদেবীর দাবি, তিনি ধর্মীয় কারণে সেখানে গিয়েছেন। কেউ অপরাধী হলে আইন মেনে পদক্ষেপ হবে।
কামারহাটির ঘোষাল পরিবারের রথ ছিল ২০০ বছরের বেশি প্রাচীন। ওই রথ থেকেই কামারহাটির ওই এলাকার নাম রথতলা হয়েছে। ওই প্রাচীন রথযাত্রা এখন আড়ে-বহরে একদম ছোটো হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, ২০১৮ সালে রথতলার বিটি রোড লাগোয়া পূর্তদপ্তরের জমি দখল করে জগন্নাথদেবের মন্দির বানিয়েছিলেন সোমনাথ রায়চৌধুরী ওরফে বাবু মণ্ডল। তিনি কামারহাটির বাহুবলী হিসেবে পরিচিত। মধ্যমগ্রাম জোড়া খুনের কাণ্ডে অভিযুক্ত। ২০২২ সাল থেকে তিনি প্রথম রথযাত্রা উৎসব চালু করেন। গত কয়েক বছরে যত সময় গড়িয়েছে রথযাত্রার জাঁকজমক ততই বেড়েছে। গতবছর এই রথে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার, বিধায়ক মদন মিত্র হাজির ছিলেন। গত পুরসভা ভোটে মদনবাবুর ছত্রছায়ায় বাবু মণ্ডল কামারহাটির নির্দল কাউন্সিলারও হন। গত সোমবার জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, লকেটদেবীর দাদা তথা কামারহাটির আরেক নির্দল কাউন্সিলার সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা তথা কাউন্সিলার সৌমিত্র পুততুণ্ডু, সমীরণ দাস ছাড়াও অন্যান্য তৃণমূল ও বিজেপি নেতারা হাজির ছিলেন। তবে এই স্নানযাত্রায় কামারহাটির বিজেপি নেতা তথা বিধানসভার প্রার্থী অরূপ চৌধুরী ও আদি বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁদের ঘনিষ্ঠরা হাজির ছিলেন না। সমাজমাধ্যমে বাবু মণ্ডলের পাশে লকেটদেবীর ছবি ভাইরাল হয়েছে। তার পরেই ঝড় উঠেছে সমালোচনার। সাধারণ বিজেপি কর্মীরা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, লকেটদেবীর দাদা সুশান্তবাবুকে কামারহাটির পুরসভার চেয়ারম্যান করার নয়া সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সেই আবহে বাবু মণ্ডলের অনুষ্ঠানে লকেটদেবীর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে।
লকেটদেবী বলেন, প্রভু জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায় আমন্ত্রণ পেয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে গুন্ডা ছিল নাকি বাহুবলী ছিল, তা আমার জানা নেই। সরকার তো গুন্ডা দমন বিল এনেছে। কেউ অপরাধী হলে আইনানুগ পদক্ষেপ হবে। অভিযোগ শুনে বাবু মণ্ডল হেসে বলেন, দস্যু রত্নাকর তো বাল্মিকি হয়েছিলেন! ওই খুনের কেসে আমাকে ফাঁসানো হয়েছিল। চক্রান্ত করে মিথ্যে মামলা করা হয়েছিল। তাতে আমাকে শাস্তিও ভোগ করতে হয়েছে। স্রেফ অভিযোগের আকারে দেখতে হলে, বিধায়ক ও সাংসদের দিকেও দেখুন। তাঁদের নামে কত অভিযোগ আছে। তারপরও আমার সামান্য ভুল-ত্রুটি বা পাপ যদি থেকে থাকে, সব প্রভু জগন্নাথের চরণসেবার মাধ্যমে মুছে গিয়েছে।