


সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: মেখলিগঞ্জে বিজেপি নেতারা এসে বার বার অনুপ্রবেশের কথা বলায় বিপাকে পড়েছে স্থানীয় নেতৃত্বই। কারণ, মেখলিগঞ্জ বিধানসভায় কাঁটাতারহীন এলাকা রয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকায়। সেখানে ইচ্ছা থাকলেই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যেত। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নজরদারির ফাঁক গলে প্রচুর বাংলাদেশি এদেশে ঢুকে পড়ে। ফলে রাজ্য সরকারের ঘাড়ে অনুপ্রবেশের দায় ঠেলে দেওয়া বিজেপি নেতারা এই বিধানসভায় ভাষণ দিয়ে যাওয়ার পর মুখ লুকোচ্ছে স্থানীয় নেতৃত্ব।
তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথায় কথায় অনুপ্রবেশের বুলি আওড়ান। কিন্তু সীমান্তে নজরদারি চালানো তাঁর অধীনে থাকা বাহিনীর ফাঁক গলে বাংলাদেশিরা এদেশে ঢুকে পড়লেও, তা আটকাতে পারছে না। ফলে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ দিতে গিয়ে নিজেরাই বিপাকে পড়েছে।
মেখলিগঞ্জের চ্যাংরাবান্ধায় ধরলা নদীর পাড় ঘেঁষে কয়েক কিলোমিটার কাঁটাতারহীন এলাকা রয়েছে। অপরদিকে মেখলিগঞ্জের বাগডোগরা, ফুলকাডাবরি, কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক কিলোমিটার তিস্তা নদীর পাড় উন্মুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের ছিটমহল আঙ্গারপোঁতা দহগ্রাম হয়ে তিস্তা নদীর পাড় দিয়ে এদেশে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশিরা। সীমান্তরক্ষী বাহিনী থাকলেও দিনের পর দিন এই সীমান্ত অনুপ্রবেশকারীদের করিডর। অভিযোগ, নদী তীরবর্তী এই চর এলাকায় ইচ্ছা করলেই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যেত। কিন্তু এনিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা নেই। ভোটাররা এ ধরনের প্রশ্ন তোলায় তার উত্তর দিতে পারছে না বিজেপি। বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার বার বার কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইছে। মেখলিগঞ্জে জমির সমস্যা নেই বটে, তবে অন্য সীমান্তে জমি দিচ্ছে না রাজ্য সরকার।
এ ব্যাপারে মেখলিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, অনুপ্রবেশ নিয়ে বিজেপি নেতারা এখানে এসে অনেকবার ভাষণ দিয়েছেন। কিন্তু ওঁরা এখানকার পরিস্থিতি জানেন না। স্থানীয় মানুষজন বিজেপির এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ শুনে হাসছে। ভোটে তার জবাব দেবে।
বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের এদেশে আধার, ভোটার কার্ড বানিয়ে দেয় তৃণমূল নেতারা। আমরা সেই বিষয়টি সামনে রেখে প্রচার করছি।