নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: জেন জি আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার পাল্টা রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামছে বিজেপি। আন্দোলন নিয়ে বিরোধীদের প্রচারের মোকাবিলায় মণ্ডল স্তরে ধারাবাহিক পথসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্ম শিবির। সেই সভাগুলিতে সাধারণ মানুষের সামনে জেন জি আন্দোলন সম্পর্কে বিজেপির অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি আন্দোলনের নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়েও প্রচার চালানো হবে। এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা।
সম্প্রতি নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করেন অমিতাভ চক্রবর্তী। বৈঠকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, বুথভিত্তিক কর্মসূচি বাড়ানো এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় জেন জি আন্দোলনের জেরে বিজেপি বিরোধী প্রচার যেভাবে ছড়িয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বলে সূত্রের দাবি। এরপরই জেলার প্রতিটি মণ্ডলে পথসভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ সভাপতি রঞ্জন অধিকারী বলেন, ‘প্রতিটি মণ্ডলে সভা হবে। কিছু মানুষ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য যুব সমাজকে ভুল বুঝিয়ে পথে নামিয়েছিল। আমরা মানুষের কাছে প্রকৃত বিষয়টি তুলে ধরব। মানুষকে সচেতন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
প্রসঙ্গত, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশজুড়ে ছাত্র-যুব সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে যায়। আন্দোলন ঘিরে একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও গুলি চালানোর ঘটনাও সামনে আসে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই আন্দোলন কেন্দ্রীয় সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যদিও আন্দোলনের শুরু থেকেই বিজেপি দাবি করে এসেছে, এটি শুধুমাত্র ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ নয়, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলে পদ্ম শিবির। আন্দোলনের পিছনে বিদেশি মদতের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে তোলা হয়। তবে বিরোধীরা সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের ক্ষোভই আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি, সেই কারণেই কেন্দ্র সরকারকে চাপে পড়তে হয়।
তবে বিজেপির পাল্টা প্রচারের উদ্যোগকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। সিপিএম নেতা সুমিত বিশ্বাস বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলন বিজেপির চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এখন পাল্টা প্রচারে নামতে হচ্ছে। কিন্তু এভাবে পরিস্থিতি সামলানো যাবে না। যদি আন্দোলনকারীরা সত্যিই দেশবিরোধী হয়ে থাকে, তাহলে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হল কেন?’
একই সুর শোনা গিয়েছে কংগ্রেসের তরফেও। কংগ্রেস নেত্রী পূজা রায়চৌধুরী বলেন, ‘এত বছর ধরে বিজেপি কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জেন জি আন্দোলন সেই প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দিয়েছে। ছাত্র সমাজ মোদি সরকারের প্রকৃত চিত্র দেশের সামনে তুলে ধরেছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে আত্মত্যাগ বলে ব্যাখ্যা করলেও মানুষ তা মেনে নেবে না। বিজেপি যতই পথসভা করুক, তাতে কোনো রাজনৈতিক লাভ হবে না।’