সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধিতে বিজেপির গড়ে মহিলাদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস। রাস্তায় রাস্তায় আবির খেলা, মিষ্টিমুখে মেতেছেন মহিলারা। যা গেরুয়া শিবিরের কাছে চিন্তায় কারণ হয়ে উঠেছে। এসআইআর নিয়ে হয়রানির মাঝে এই উচ্ছ্বাস, উন্মাদনায় ডাবগ্রাম -ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র পুনরুদ্ধারে উজ্জীবিত হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মহিলাদের উচ্ছ্বাসে বিজেপির ভোট কমবে না। জমির অবৈধ কারবারের জন্য এখানকার মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মহিলাদের উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি রাজ্যের তৃণমূল সরকার ১৫ বছরের উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে প্রচারে ঘরে ঘরে সাড়া মিলছে। কিন্তু এলাকার মানুষের বক্তব্য, তৃণমূলের দু’বারের বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে গৌতম দেব এখানে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু তৃণমূলের ছাতার তলায় থাকা নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশের অবৈধ কার্যকলাপের জন্যই তৃণমূলকে মানুষ এখানে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই সব বিতর্কিত মুখ এখনও তৃণমূলের কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থাকছেন। তাঁদের জন্য এলাকার মানুষের কাছে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা কমেছে।
বিজেপির ফুলবাড়ি মণ্ডল সভাপতি রাজু রায় বলেন, লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারের প্রভাবে সব জায়গায় তৃণমূল ভালো ভোটে পেলেও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে একের পর এক নির্বাচনে হেরেছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৭ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছে। ২০২৪’র লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি প্রার্থী এখান থেকে ৭২ হাজার ভোটে লিড পেয়েছেন। এর কারণ মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িকে বিজেপির গড় বানিয়েছেন। তাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভাতা বৃদ্ধিতে আমাদের ভোট কমবে না।
বিজেপির বিধায়ক ও সাংসদের বিরুদ্ধে এলাকায় না পাওয়া এবং অনুন্নয়নের অভিযোগ তৃণমূলের। এর পাল্টা প্রচারে বিজেপি বলছে, একের পর এক নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিশোধ থেকে বিজেপির বিধায়ক ও সাংসদের কাজ করতে দেয়নি তৃণমূল। রাজু রায় বলেন, তৃণমূল ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির উন্নয়নের কারিগর হিসেবে দাবি করে। পরাজয়ের প্রতিহিংসায় গত পাঁচ বছরে এই এলাকার কোনও কাজ করেনি তৃণমূল।
যদিও জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সদস্য তৃণমূল নেত্রী মনীষা রায় বলেন, মানুষ গত পাঁচ বছরে বুঝে গিয়েছে বিজেপি বিধায়ক তাদের কতটা পিছিয়ে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলই যে উন্নয়ন করতে পারে মানুষ সেটা বুঝতে পেরেছে। তাই তারা আবার তৃণমূলকেই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে জেতাবে।