নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট মেরেকেটে আর সাত মাস। এই পর্বে বঙ্গ বিজেপির দলবদলু শিবিরের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী হতে চলেছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নাও হতে পারে। কারণ, সদ্য রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া শমীক ভট্টাচার্য বুঝিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন ভোটে তাঁর পূর্ণ আস্থা আদি কর্মী-সমর্থকদের উপরই। দিল্লি আসার আগে তাঁর প্রকাশ্য বার্তা ছিল, আদি ও নব্যপন্থী নেতা-কর্মীদের একসঙ্গে চলতে হবে। বারবার তিনি দাবি করছেন, বিজেপিতে আদি এবং নব্যদের কোনও দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু দলের অন্দরের খবর, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা তিল তিল করে রাজ্যে বিজেপিকে কিছুটা হলেও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন, চার দশকেরও কিছু বেশি সময়ের বিজেপি কর্মী শমীকবাবু এবং তাঁর নতুন ‘টিম’ তাঁদের বেশি গুরুত্ব দিতে চলেছেন। প্রত্যাশিতভাবেই। শুধু তাই নয়। অতীতে যেভাবে ভিন দল থেকে বিজেপিতে যোগদানকারীদের উপর বাড়তি নির্ভরতা তৈরির একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তাও বন্ধ হতে চলেছে। দলীয় সূত্রের খবর, রাজ্যের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভিন দল থেকে নাগাড়ে পার্টিতে যোগদানের হারে রাশ টানবে বঙ্গ বিজেপি।
সেইমতোই দলের ‘মতাদর্শ ও ভাবধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত’ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়েই ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে বাংলার গেরুয়া শিবির। শনিবার বিজেপির শীর্ষ সূত্রে এই খবর জানানো হয়েছে। সঙ্গত কারণেই এই বিষয়কে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল। তাদের মতে, এহেন কৌশলে এবার আরও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে ইতিমধ্যেই বিজেপিতে থাকা দলবদলুদের উদ্দেশে। সেক্ষেত্রে কি বিধানসভা ভোটে বঙ্গ বিজেপির প্রত্যেক দলবদলুকে আদৌ টিকিট দেওয়া হবে? আপাতত এই প্রশ্নেও তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
শুক্রবারই দিল্লিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেছেন, ‘এদিক-ওদিক থেকে লোক জোগাড় করে বিজেপি রাজনীতি করে না। আমাদের দলের নিজস্ব রাজনীতি আছে, ভাবধারা আছে। তবে এতদিন যাঁরা বিরোধী রাজনীতির মঞ্চে থেকেও তৃণমূল কংগ্রেসকে সুবিধা করে দিচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই আমাদের আবেদন, বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল করতে গেলে এমনটা করবেন না।’ শমীকবাবুর ইঙ্গিত যে দলের অন্দরের ‘ক্ষমতালোভী’ কিছু নেতার দিকে, সে ব্যাপারে সংশয় নেই। আর উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তাঁর জমানায় আদি কর্মীরা যে আর গুরুত্বহীন হয়ে থাকবেন না, সেটাও বোঝাচ্ছেন নয়া রাজ্য সভাপতি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং সঙ্ঘও সেই মর্মেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে বিজেপির অন্দর মহলের খবর। কারণ, ১০ এবং ১১ জুলাই দিল্লিতেই ছিলেন শমীকবাবু। রাজ্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম দিল্লি সফর। শনিবার বেলায় তিনি দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরার বিমান ধরেছেন। গত দু’দিনে বিজেপির তিন শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল, বিএল সন্তোষ এবং শিবপ্রকাশের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ হয়েছে তাঁর। ‘আদি’ কৌশল কি সেইসব সাক্ষাতেরই ফসল?