Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উত্তর কলকাতায় থাবা বিজেপির, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকো, কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় ফুটল পদ্ম

উত্তর কলকাতা মানেই তৃণমূল। ২০০১ সাল থেকে জোড়াসাঁকো এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্র নিজেদের দখলে রেখেছিল জোড়াফুল শিবির।

উত্তর কলকাতায় থাবা বিজেপির, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকো, কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় ফুটল পদ্ম
  • ৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতা মানেই তৃণমূল। ২০০১ সাল থেকে জোড়াসাঁকো এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্র নিজেদের দখলে রেখেছিল জোড়াফুল শিবির। ২০১১ সালে বাম আমলের পতনের সঙ্গেই শ্যামপুকুর কেন্দ্রও ফুটেছিল ঘাসফুল। কিন্তু, ২০২৬ এর গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতোই উড়ে গেল এই কেন্দ্রের সমস্ত রেকর্ড। তিন কেন্দ্রেই ফুটল পদ্ম। পরাজয় শিকার করতে হল শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কলকাতার পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষকে। জয়যুক্ত হলেন বিজেপি প্রার্থীরা। কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্র থেকে নতুন বিধায়ক হলেন বিজেপির রীতেশ তিওয়ারি। শ্যামপুকুরে পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং জোড়াসাঁকোয় বিজয় ওঝা। 

Advertisement

এই তিন কেন্দ্রের গণনা হয় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। এদিন সকালে তিন কেন্দ্রের ইভিএম বাক্স খুলতেই স্কোর বোর্ডে রান উঠে শুরু হয় বিজেপির পক্ষে। তিনটি কেন্দ্রেরই মোট ২১ রাউন্ড গণনা হয়। কোনও রাউন্ডেই পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তিন বিজেপি প্রার্থীকে। গণনা শেষে জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে বিজেপি জেতে ৫৭৯৭ ভোটে। শ্যামপুকুরে শশী পাঁজাকে হারতে হল ১৪,৬৩৩ ভোটে। তবে কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রে বিজেপির রীতেশ তিওয়ারি জিতেছেন মাত্র ১৬৫১ ভোটে। গণনার শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা ছিল কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্র নিয়ে। শুরু থেকেই খুব কম ব্যবধান ছিল দুই প্রার্থীর প্রাপ্তি ভোটের মধ্যে। 
অতীন ঘোষ যে হারতে পারেন তা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তাঁর কাউন্টিং এজেন্ট থেকে শুরু করে অনুগামীরা। তবে শেষ হাসি হেসেছেন বিজেপির রীতেশ। এবারের নির্বাচনে জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে বিদায়ী বিধায়ক বিবেক গুপ্তকে পরিবর্তন করে বিজয় উপাধ্যায়কে প্রার্থী করে তৃণমূল। বিজয় ওঝার কাছে পরাজিত হন তৃণমূলের বিজয় উপাধ্যায়। ২০২১-এ জয়ের পরে শশী পাঁজাকে একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজ কল্যাণ দপ্তরের পাশাপাশি শিল্প দপ্তরেরও মন্ত্রী করা হয় তাঁকে। দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থেকে শুরু করে বিধানসভাতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আলোচনা নিতে দেখা যেত শশী পাঁজাকে।    
এদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম চত্বর পুরো মুড়ে ফেলা হয়েছিল নিরাপত্তার চাদরে। স্ট্র্যান্ড রোড থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের আশপাশের সমস্ত রাস্তায় এদিন ভোর থেকেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা টপকে ঢুকতে হয় গণনা কেন্দ্রে। সামান্য কাগজকলম নিয়েও ঢুকতে দেওয়া হয়নি কাউন্টিং এজেন্টদের। গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে ঢুকতে না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় একাধিক কাউন্টিং এজেন্টকে। গণনাকেন্দ্রের মধ্যে কিউআর কোড দেওয়া পরিচয়পত্র স্ক্যান করে তবেই ঢুকতে দেওয়া হয় ভোটকর্মীদের। তবে নেতাজি ইন্ডোরে গণনা শুরু হয় বেশ দেরি করেই। সকাল ৮টায় গণনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ। পোস্টাল ব্যালট গণনা চলতে চলতেই চালু হয় ইভিএম গণনা। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ