নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাঁকরাইল বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরেই বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ। দলের দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় বর্ণালী ঢালির নাম ঘোষণার পর শুক্রবার সকাল থেকেই সাঁকরাইল ব্লকের নেতা-কর্মীদের একাংশ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রার্থীকে তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। পরিবর্তে দলেরই আরেক নেতা বিকাশ ঢালিকে প্রার্থী করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। এই দাবিকে সামনে রেখে দিনভর সরব থাকেন দলীয় কর্মীদের একটি বড়ো অংশ। দাবি না মানলে একসঙ্গে প্রায় দু’হাজার কর্মী ইস্তফা দিতে পারেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিজেপির ঘোষিত তালিকায় সাঁকরাইল কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে মানিকপুর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ও জেলার মহিলা মোর্চার আহ্বায়ক বর্ণালী ঢালির নাম ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। শুক্রবার তা প্রকাশ্য আসে। সাঁকরাইল ব্লকে বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ জানিয়েছে, তাঁরা বিকাশ ঢালির নাম প্রার্থী হিসাবে সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করে অন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। শুক্রবার ধূলাগড়ের একটি হোটেলে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির হাওড়া জেলা সদরের এসসি মোর্চার সহ-সভাপতি বিকাশ নস্কর। তিনি বলেন, ‘সাঁকরাইলে বর্ণালী ঢালিকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তে বহু কর্মী সন্তুষ্ট নন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো ক্ষমতা একমাত্র বিকাশ ঢালিরই রয়েছে।’ তাঁদের দাবি, ধূলাগড়ের বাসিন্দা বিকাশ ঢালি দীর্ঘদিন ধরে দলের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে তিনি ধূলাগড় পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা। প্রায় তিন দশক ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি এলাকায় সংগঠন ও কর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য।
এই দাবিকে সামনে রেখে প্রায় দু’হাজার কর্মী জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানাবেন বলে স্থির করেছেন। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দাবি মানা না হলে নেতা-কর্মীদের একাংশ দল ছাড়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে। যদিও জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এই দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। জেলা সদরের সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবদিক বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেতৃত্ব। ফলে পরিবর্তনের প্রশ্ন নেই। বিজেপিতে ব্যক্তি নয়, দলীয় প্রতীকই মুখ্য। সব প্রার্থীই নরেন্দ্র মোদি ও পদ্মফুলের প্রতিনিধিত্ব করেন।’
এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সাঁকরাইলের তৃণমূল প্রার্থী প্রিয়া পাল বলেন, ‘বিষয়টি বিজেপির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বিজেপি প্রার্থীর পঞ্চায়েত স্তরেই কাজের অভিজ্ঞতা নেই। সেকারণে আসন্ন নির্বাচনে আমি বড়ো ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’