Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় বিজেপির ৩০ ‘নজরদার’! বেনজির কাণ্ড চুঁচুড়ায়

তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরসভার পরিষেবায় নজর রাখতে ৩০ জন ‘নজরদার’ বহাল করল বিজেপি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুরকর্তারাও ওই ‘সিদ্ধান্ত’কে মান্যতা দিয়েছেন।

তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় বিজেপির  ৩০ ‘নজরদার’! বেনজির কাণ্ড চুঁচুড়ায়
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরসভার পরিষেবায় নজর রাখতে ৩০ জন ‘নজরদার’ বহাল করল বিজেপি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুরকর্তারাও ওই ‘সিদ্ধান্ত’কে মান্যতা দিয়েছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলে বেনজির ওই ঘটনাকে ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। সদ্য পুরসভার ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য ৩০ জন প্রতিনিধিকে বহাল করেছেন সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ। তাঁরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে পুরসভার যাবতীয় পরিষেবা নিয়ে ইতিমধ্যেই তত্ত্বাবধান শুরু করেছেন। সাফাই থেকে নিকাশি, জল থেকে বিদ্যুৎ সমস্ত পরিষেবা খুঁটিনাটি তাঁরা দেখতে শুরু করেছেন। বিজেপির দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পরে তৃণমূল কাউন্সিলাররা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাঁরা পুরসভার কাজে আগ্রহ হারিয়েছেন। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে পরিষেবা দিতে দলীয় কর্মীদের নামাতে হয়েছে।

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিধায়স সুবীর নাগ পুরসভাকে চিঠি দিয়ে ওই নজরদারদের দায়িত্ব দিতে বলেছিলেন। সেখানে তিনি ওই নজরদারদের ‘পুরপ্রতিনিধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এ নিয়ে পুরসভার অন্দরে একপ্রস্থ বিতর্ক হয়। কারণ, কাউন্সিলারদেরই ‘পুরপ্রতিনিধি’ বলা হয়। যদিও শেষপর্যন্ত ওই নজরদারদের পুরপ্রতিনিধি বলে ঘোষণা না করলেও তাঁদের কাজের নজরদারিতে বাধা দেয়নি তৃণমূলের পুরসভা। 
এনিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সৌমিত্র ঘোষ বলেন, চুঁচুড়া বিধানসভা জয়ের পরেই বিজেপির সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক সুবীরবাবু পুরসভায় এসেছিলেন। তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের আমাদের কাজে নজর রাখার জন্য বহাল করতে বলেন। আমাদের গোপন করার কিছু নেই। তাছাড়া বাড়তি নজরদারিতে নাগরিক পরিষেবার কাজ ভালো হলে তাতে আপত্তির কিছু থাকতে পারে না। সেই কারণেই আমরা বিধায়কের দেওয়া নামের তালিকা অনুসারে ৩০ জনকে পুরসভার ত্রিশটি ওয়ার্ডে নজরদারি করতে দিয়েছি। তবে বিধায়ক ওই নজরদারদের ‘পুরপ্রতিনিধি’ বলতে বলেছিলেন। আইনত তা করা যায় না। তাই তাদের বিধায়ক প্রতিনিধি বলে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 
এনিয়ে বিধায়ক সুবীরবাবু বলেন, রাজ্যের ক্ষমতা হারিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব কাজের আগ্রহ হারিয়েছিলেন। সামনেই বর্ষাকাল। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, জল জমার সমস্যা মোকাবিলা, নালা সংস্কারসহ একগুচ্ছ কাজ আছে। আমরা তাই দলীয় কর্মীদের ওই কাজের নজরদারিতে বহাল করেছি। তাতে নাগরিকদের সুষ্ঠু পরিষেবা ব্যাহত হবে না। তাছাড়া পুরসভার কাজে ঢিলে দিয়ে রাজ্য সরকারকে বিপাকে ফেলার চক্রান্তও হতে পারত। আমরা সেই সম্ভাবনাও রুখে দিতে চেয়েছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চুঁচুড়ার এক প্রবীণ বাম নেতা বলেন, একটি নির্বাচিত বোর্ড যেখানে পুরসভা চালাচ্ছে। অথচ তারাই অন্য দলের প্রতিনিধি পুরসভা কাজে নজরদারি করার লিখিত অনুমোদন দিচ্ছে। এটা সমঝোতা না মেরুদণ্ডহীনতা আমি জানি না। তবে এটা যে চূড়ান্ত বেনজির ঘটনা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বিধানসভায় বিরাট জয় এবং চুঁচুড়াতেও বড়ো ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। তারপরেই চুঁচুড়ার সমস্ত বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন নতুন বিধায়ক সুবীর নাগ। সেই সূত্রেই বেনজিরভাবে ৩০ জন নজরদার বহাল করা হয়েছে চুঁচুড়ায়। 

সম্পর্কিত সংবাদ