নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশব্যাপী জ্বালানি সংকট। এর মধ্যে আজ, শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সমাবেশে দলের কর্মী, সমর্থকদের খাবারের জোগান নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় বিজেপি নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, এনিয়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দিল্লি থেকে খোঁজখবর রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এই আবহে রাজ্য বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারির পথে হাঁটতে চলেছে দলের কেন্দ্রীয় পার্টি। সেখানে বলা হচ্ছে, প্রয়োজনে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের পরিবর্তে বিকল্প উপায়ের ব্যবস্থা করুন। কোনোমতেই জ্বালানি অপচয় করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলির হাতে অস্ত্র তুলে দেবেন না।
প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সমাবেশের ভিড় নিয়ে সংশয়ে গেরুয়া শিবির। এই পরিস্থিতিতে যদি দলের উপস্থিত নেতা, কর্মী-সমর্থকদের রান্নার জোগাড় বা খাবার পেতে সমস্যা হয়, তাহলে সার্বিক অবস্থা আরও ঘোরালো হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা নেতৃত্বের একাংশের। কারণ ব্রিগেড সমাবেশ হলে স্বাভাবিকভাবে রান্নার ব্যবস্থা করবেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। যদি নিজেরা রান্না নাও করেন, তাহলেও খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। দুই ক্ষেত্রেই জ্বালানির প্রয়োজন হবে। মুখে যতই জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার বরাভয় দিক না কেন, আদতে পরিস্থিতি যে বিশেষ অনুকূলে নেই—তা বিলক্ষণ জানে গেরুয়া শিবির। এই পরিস্থিতিতে যদি সরাসরি ব্রিগেড সমাবেশে হাজির হওয়া কর্মী, সমর্থকদের খাবারের জোগানে টান পড়ে, তাহলে বাংলার গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি আবহে কার্যত দলের মধ্যেই রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়তে হবে বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বকে। অভিযোগ, জ্বালানি সংকটে পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক গ্যাস পাচ্ছেন না বহু ব্যবসায়ী। ফলে একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁর ঝাঁপ আপাতত বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই উনুন বা ইন্ডাকশনে রান্নার কথা ভাবছেন। তবে সেটিও খরচ এবং সময় সাপেক্ষ। ফলে নরেন্দ্র মোদির গুরুত্বপূর্ণ ব্রিগেড সমাবেশের আগে সম্পূর্ণ নতুন এক উপসর্গে নাজেহাল হয়ে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি।
যদিও জ্বালানি সংকটের আবহে শুক্রবার দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে উত্তরবঙ্গ এলাকায় ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন লিমিটেডের (আইওসিএল) নোডাল অফিসারের কথা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, অন্তত নর্থ বেঙ্গল রিজিয়নে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের কোনো সংকট নেই। রাজুর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। মিথ্যা, ভিত্তিহীন সংকটের আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।