বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকে নিজের অফিসে আত্মহত্যা করলেন এক বিজেপি কর্মী। সুইসাইড নোটে মৃত্যুর জন্য কংগ্রেস বিধায়ক এ এস পোন্নান্না ও অন্য কয়েকজন কংগ্রেস নেতার নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। মৃতের নাম বিনয় সোমাইয়া। শুক্রবার বেঙ্গালুরুর নাগাওয়ারা এলাকায় অফিস থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিস। এরপইৈ শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতর। বিধায়ক পোন্নান্নার দাবি, ওই ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না। বিজেপিকে দুষে তিনি বলেন, ওরা শকুনের মতো। কোনও মৃতদেহ পেলেই, তারা রাজনীতি করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। মৃতের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর সৌজন্য ওদের নেই।
বেঙ্গালুরুতে বিনয়ের অফিস হলেও আদতে তিনি কোদাগু জেলার সমরপেটের বাসিন্দা। পাশাপাশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন তিনি। ওই গ্রুপে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া, স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক এ এস পোন্নান্নার বিরুদ্ধে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ও বিকৃত ছবি পোস্ট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় বিনয় সহ অন্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে কংগ্রেস। পরে জামিন পান বিনয়। মামলাটির উপর স্থগিতাদেশও দিয়েছিল স্থানীয় আদালত। কিন্তু তারপরও বিনয়কে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
বিনয় সুইসাইড নোটে লিখেছেন, ‘আমাকে মাত্র পাঁচদিন আগে ওই গ্রুপের অ্যাডমিন করা হয়েছে। কিন্তু বিতর্কিত পোস্টগুলি দু’মাস আগে গ্রুপে করা হয়েছিল। তারপরও রাজেনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আমার রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করতে সমাজে একজন অপরাধী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।’ বিনয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিস। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেন, পুলিসের ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিজেপি। দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন বিজেপির বিধান পরিষদের নেতা সি নারায়ণস্বামী।