


সংবাদদাতা, করিমপুর: তৃণমৃলের তারকা প্রার্থী সোহমকে হারিয়ে করিমপুরের দখল নিল বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সোহম চক্রবর্তীকে প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। সোমবার সকাল থেকে বেতাই বিআর আম্বেদকর কলেজে ভোট গণনা শুরু হতেই করিমপুরজুড়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। জেতার পর গেরুয়া আবির খেলায় মেতে ওঠেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই ছিল বামফ্রন্ট তথা সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি। ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা এই কেন্দ্র বামেদের দখলে ছিল। তবে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মহুয়া মৈত্র সিপিএমের তৎকালীন বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষকে পরাজিত করে এই কেন্দ্রে প্রথমবার জয় এনে দেন তৃণমূলকে। সেই নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ৯০ হাজার ৯৮৯টি ভোট, সিপিএম পেয়েছিল প্রায় ৭৫ হাজার ভোট এবং বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৩ হাজার ৩২০টি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই করিমপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। লোকসভা নির্বাচনে করিমপুর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস ৮৭ হাজার ৫১৩ ভোট পায়। আর বিজেপির ভোট বেড়ে ২৩ হাজার থেকে চড়চড় করে বেড়ে ৭৩ হাজার ১৭৩ ভোট পায়।
অন্যদিকে পৃথকভাবে লড়া সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থীদের মিলিত ভোট ছিল প্রায় ৩৯ হাজার ৭০৬। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরও বড়ো রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। সিপিএমের বহু নেতা-কর্মী এবং সমর্থকের পাশাপাশি প্রাক্তন বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষও বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সেই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়ের কাছে প্রায় ২৩ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন তিনি। তবে এবারের নির্বাচনে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ফের লড়াইয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সোহম চক্রবর্তীকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন সমরেন্দ্রনাথবাবু। এদিন সকাল থেকেই করিমপুরে ছিল টানটান উত্তেজনা। বিজেপি কর্মীদের দাবি, মোট ২৩ রাউন্ডের গণনায় প্রথম ১৪ রাউন্ড পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী পিছিয়ে ছিলেন। মূলত মুসলিম অধ্যুষিত করিমপুর-২ ব্লক এলাকার ভোট গণনায় তৃণমূল এগিয়ে ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে করিমপুর-১ ব্লকের ইভিএম গণনা শুরু হতেই পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। একের পর এক রাউন্ডে ব্যবধান কমিয়ে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথবাবু। শেষ রাউন্ড পর্যন্ত সেই ব্যবধান ক্রমশ বাড়তেই থাকে।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় মিছিল বের হয়। আবির খেলায় মেতে ওঠেন কর্মী-সমর্থকরা। সীমান্তবর্তী এই কেন্দ্রে বিজেপির এই জয় আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।