


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জয়ী ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। তৃণমূলের জাহাঙ্গির থাকল ৪ নম্বরে। ফলতায় গত লোকসভা নির্বাচনে যেখানে ঘাসফুল শিবির ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটে জয় লাভ করেছিল সেখানে এবারে জাহাঙ্গিরের খাতায় মাত্র ৭হাজারের বেশি কিছু ভোট। কার্যতই কোনঠাঁসা হল তৃণমূল। পুর্নর্নিবাচনে এবার কিছুটা নজর কেড়েছে সিপিআইএম। বামফ্রন্ট প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি পেলেন ৪০ হাজারের বেশি কিছু ভোট। এছাড়াও কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ১০ হাজার ভোট পড়েছে। ভোটগণনা শুরু হতেই প্রথম রাউন্ড থেকে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস পণ্ডা। তখনই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, দিনের শেষে ফল কোন দিকে ঝুঁকতে চলেছে।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ফলতা কেন্দ্রের ভোট হয়েছিল ২৯ এপ্রিল। কিন্তু সেই ভোট ঘিরে শুরু থেকেই ওঠে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ। বিজেপি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়। অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখে কমিশন শেষ পর্যন্ত পুরো ভোট প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেয় এবং পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।
এই আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে আসে আরও এক নাটকীয় মোড়। পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সংবাদিকদের কাছে ঘোষণা করেন তিনি এই নির্বাচন থেকে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহর করলেন। ফলে ২১ মে পুনর্নির্বাচনে কার্যত অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ছিল তৃণমূল শিবির। দলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, এটি সম্পূর্ণভাবে জাহাঙ্গির খানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে মাঠে নামে বিজেপি। দলের প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার সমর্থনে জোরদার প্রচার চালানো হয়। এমনকি বিজেপির প্রচারে নিজে অংশ নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। গত ২১ মে ফলতায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভোটগ্রহণে মোতায়েন করা হয়েছিল ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। সকাল থেকেই একাধিক বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্য তৈরি করেছিল। সারাদিন জুড়েই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের টহল ছিল নজরকাড়া। বিশেষ করে ‘পুষ্পা’ খ্যাত জাহাঙ্গির খানের বাড়ির আশপাশে নিরাপত্তা ছিল অত্যন্ত কড়া। তবে প্রশাসনের দাবি ছিল, গোটা ভোটপর্বই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।