


নিজস্ব প্রতিনিধি, ফলতা: ‘ডায়মন্ডহারবার মডেল’! গত কয়েক বছরে রাজ্য রাজনীতিতে বারবার উচ্চারিত হয়েছে এই শব্দবন্ধ। মডেলের রূপকার অন্য কেউ নন, ডায়মন্ডহারবারের তিনবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মডেলের হাত ধরেই ডায়মন্ডহারবার হয়ে উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য দুর্গ। আর সেই দুর্গের কেন্দ্র ছিল ফলতা। যেখানে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৭২ ভোটে। দু’বছর পর সেখানেই পুনর্নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল ‘ডায়মন্ডহারবার মডেল’! লক্ষাধিক ভোটে ফলতায় জয় পেল বিজেপি। আর সেদিনের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস নেমে গেল চতুর্থ স্থানে। ইতিমধ্যে রাজ্যে গঠিত হয়েছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতায় ভোটপ্রচারে গিয়ে জয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিলেন, দেখা গেল, সেটাই সম্ভব করেছেন ফলতার বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। যার রেশ ধরে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখলেন, ‘বিজেপির প্রার্থীকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম। জয়ের ব্যবধান ১ লক্ষ ৮ হাজার পেরিয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ শোধ করব। সোনার ফলতা গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ।’
কারও কারও ব্যাখ্যা, সরকার বদলের পর পুনর্নির্বাচন। তাই ভোট কমেছে ঘাসফুলের। তবে রাজনৈতিক মহলের বড়ো অংশের মতে, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে যেভাবে এলাকার সাধারণ মানুষ সরব হয়েছিল, তার থেকেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া, ভোটের দু’দিন আগে তৃণমূল প্রার্থী নিজেকে ময়দান থেকে সরিয়ে নেওয়ার ফলে ভোটগ্রহণ বা গণনায় তৃণমূলকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। বিজেপির জয়ী প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা বলেন, ‘এখন আর ডায়মন্ডহারবার মডেল বলে কিছু নেই। প্রচারে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ফলতায় আমাকে দিয়ে মাছ কাটাবেন। আমি বলছি, উনি আসুন এখানে। মাছ-ভাত খাওয়াব।’
গত লোকসভা ভোটে অভিষেক ডায়মন্ডহারবার লোকসভা আসনে সাত লক্ষের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এদিন ফলতার ফলাফল সামনে আসার পর বিভিন্ন মহলে চর্চা, তিন বছর পর লোকসভা ভোটে তৃণমূল কত ভোট পেতে পারে! তবে তৃণমূলের চতুর্থ স্থানে নেমে যাওয়ার পিছনে অনেকে ফলতার স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকেই দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, ‘মানুষ কতটা বীতশ্রদ্ধ হয়েছিল জাহাঙ্গিরের উপর, এই ফলাফল তার প্রমাণ।’ অভিজ্ঞরা বলছেন, গত ১৫ বছর তো নয়ই, বাম আমলেও তৃণমূলের এমন শোচনীয় পরাজয় ঘটেনি ফলতায়। প্রয়াত তমোনাশ ঘোষ এই আসনে তিনবার জিতেছেন। ২০২১ সালে তৃণমূলের শংকর নস্কর প্রায় ৪০ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। তার আগেও ব্যবধান ২৫-৩০ হাজারের মধ্যে ছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মানুষকে তাদের মতো করে ভোটদানে বাধা বা হুমকি না দেওয়া হত, তাহলে এতটা খারাপভাবে হারতে হত না তৃণমূলকে।