


কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাটাল মহকুমার তিনটি বিধানসভা আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের পথে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীরা। একুশের ভোটের ফলাফলকে পুরো পালটে দিয়ে চমকপ্রদ সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। সোমবার ভোটগণনার শুরু থেকেই ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয় চত্বরে টানটান উত্তেজনা ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা স্পষ্ট হতে শুরু করে। ঘাটালে গতবারের জয়ী বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট এবার জয়ের ব্যবধান অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছেন। গত নির্বাচনে তিনি তৃণমূল প্রার্থী শঙ্কর দলুইকে মাত্র ৯৬৬ভোটে হারিয়েছিলেন। এবার সেই ব্যবধান ৩৪হাজারেরও বেশি। এই ব্যবধান ঘাটালে শীতলবাবুর জনসমর্থন ও তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই তুলে ধরেছে। দাসপুর ও চন্দ্রকোণা বিধানসভা আসনে এবার জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। গত নির্বাচনে দাসপুরে তৃণমূলের মমতা ভুঁইয়া ২৬,৮৪২ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেখানে তৃণমূলের চেয়ে প্রায় ২৬হাজার ভোটে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী তপন দত্ত। চন্দ্রকোণায় গতবার তৃণমূলের অরূপ ধাড়া ১১,২৮১ভোটে জিতেছিলেন। এবার বিজেপির সুকান্ত দলুইয়ের সামনে জোড়াফুল প্রার্থী সূর্যকান্ত দলুই দাঁড়াতে পারেননি। তৃণমূল প্রার্থী ৩৩,৪৮১ ভোটে হেরেছেন। এই কেন্দ্রে পদ্ম শিবিরের উত্থান কার্যত তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরিয়ে দিয়েছে। চন্দ্রকোণায় প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে তৃণমূল প্রার্থী কয়েক হাজার ভোটে এগিয়ে থাকলেও তৃতীয় রাউন্ড থেকেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। বিজেপির লিড ক্রমেই বাড়তে থাকে। ঘাটাল ও দাসপুরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিজেপি দাপট বজায় রেখেছিল। ষষ্ঠ রাউন্ডের পর থেকে যখন বিজেপি শিবিরে বিজয়োল্লাস, ঠিক তখনই তৃণমূলের ক্যাম্পগুলি ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু করে। গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ও বাইরে তখন শুধুই গেরুয়া আবির আর ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। এই বিপুল জয়কে বিজেপির স্থানীয় নেতারা ‘মানুষের জয়’ বলে অভিহিত করেছেন। এদিন দুপুর থেকেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা সারা মহকুমাজুড়ে বিজয় মিছিলের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় বিজয় মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।