Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গোর্খা জাতির জন্য কিছু করবে না বিজেপি, তৃণমূলে যোগদান করে বিস্ফোরক কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ

বিধানসভা ভোটের মুখে ফের ভাঙন বিজেপিতে। তৃণমূলে যোগ দিলেন কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে শামিল হন তিনি।

গোর্খা জাতির জন্য কিছু করবে না বিজেপি,  তৃণমূলে যোগদান করে বিস্ফোরক কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের মুখে ফের ভাঙন বিজেপিতে। তৃণমূলে যোগ দিলেন কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে শামিল হন তিনি। তাঁকে তৃণমূলে স্বাগত জানান রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজা। তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিষ্ণুপ্রসাদ সাফ জানিয়ে দিলেন, পাহাড় এলাকার উন্নয়ন করছেন মুখ্যমন্ত্রী। গোর্খা জাতির উন্নয়নে কিছু করবে না বিজেপি।

Advertisement

মার্চ মাসের শুরুতেই বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করতে পারে বলে খবর। ঠিক তার আগে বিজেপি শিবিরে বড়সড় ধাক্কা। খোদ বিজেপি বিধায়ক দল ছাড়লেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল ৭৭টি আসন। পাঁচ বছরের শেষে এখন বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ৬৩টিতে। এখন তৃণমূলের সরকারিভাবে বিধায়ক সংখ্যা ২২০। এছাড়াও ছ’জন বিধায়ক দলবদল করে তৃণমূলে শামিল হয়েছেন।  
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গোর্খাল্যান্ডের তাস খেলে বিজেপি ভোটে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গোর্খাল্যান্ডের বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ করেনি কেন্দ্রের সরকার। 
চলতি মাসে বিধানসভার অধিবেশনের শেষ দিনে বিজেপিকে চড়া সুরে আক্রমণ করেছিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ। সেদিনই তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, এখন আমি মুক্ত পাখি। পাহাড়ে অতি পরিচিত মুখ বিষ্ণুপ্রসাদ। গোর্খা জনজাতি এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে সচেষ্ট। এহেন মুখকে দলে শামিল করে পাহাড়ে রাজনৈতিক ভিত তৃণমূল আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করা হচ্ছে। বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বলেন, কেন্দ্র থেকে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কোনো টাকা পাঠানো হচ্ছে না। তারপরেও এখানে উন্নয়ন থেমে থাকেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছেন। আরবিজেপির বিশৃঙ্খালার রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন একমাত্র তৃণমূল নেত্রী। পাশাপাশি গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে বিষ্ণুপ্রসাদের তোপ, বিষয়টি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে টর্চ লাইটকে সূর্য হিসেবে দেখাচ্ছে বিজেপি। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। গোর্খা জাতির উন্নয়নের জন্য একটি সুতোও দেবে না ওরা। বিষ্ণুপ্রসাদকে স্বাগত জানিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজা জানান, ধর্মীয় রাজনীতি ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক।

সম্পর্কিত সংবাদ