প্রীতেশ বসু ও রাজদীপ গোস্বামী, গড়বেতা: আবারও ‘খেলা হবে’! সেই খেলা বিজেপিকে রাজ্য থেকে মুছে দেওয়ার। রাজনৈতিকভাবে খতম করার। ঠিক যেভাবে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে গেরুয়া শিবিরকে মাঠের বাইরে বের দিয়েছিল বঙ্গবাসী। আবারও ঠিক তেমন খেলা হবে। মানুষের অধিকার খর্ব করে বাংলা দখলের চক্রান্তকারী মোদি-শাহের বিরুদ্ধে সেই খেলা শুরু করে দিয়েছে বাংলার মানুষ—হুংকার দিলেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার জঙ্গলমহলের সভামঞ্চ থেকে তিনি সরব হয়েছেন গেরুয়া ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। জানিয়েছেন, প্রথমে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ করে বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা হয়েছে। তারপর ভোটাধিকার ছিনতাই করতে এসআইআর, আর একেবারে শেষে বহিরাগত ভোটার ঢুকিয়ে ভোট লুটের চেষ্টা। উপচে পড়া ভিড়কে সাক্ষী করে যাবতীয় অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় গর্জে উঠেছেন, ‘খেলা হবে। এবারেও খেলা হবে। প্রচণ্ড খেলা হবে। মানুষ খেলা শুরু করে দিয়েছে। বিজেপিকে খতমের খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলার মানুষ খেলবে। গণতান্ত্রিক ভাবে খেলবে। আর ওরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে।’
এদিন জঙ্গলমহলে একাধিক সভা করেন মমতা। দলীয় প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলুইয়ের প্রচারের জন্য সকালে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই মেঘভাঙ্গা বৃষ্টি মাথায় করে পৌঁছে যান চন্দ্রকোণায়। তখনও সভাস্থলে কানায় কানায় ভিড়। পরবর্তীতে একই ছবি ধরা পড়ে গড়বেতা এবং বিষ্ণুপুরে, তৃণমূল প্রার্থী উত্তরা সিংহ হাজরা এবং তন্ময় ঘোষের হয়ে প্রচারসভাতেও। ভিড়ে ঠাসা সভায় বিজেপির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে নেত্রী বলেন, ‘ওরা সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভাজন করতে চায়। কিন্তু খবরের কাগজ খুলে দেখুন যে, বিবাহিত হিন্দু মহিলাদেরও কীভাবে মুসলিমদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি আদিবাসী মহিলাদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। বাগদা ও বনগাঁয় মতুয়াদের নাম একতরফাভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারে রাজবংশীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘুরা প্রথম থেকেই ওদের টার্গেট। ওদের পরিকল্পনা হল, বাংলাকে ধ্বংস ও বিপর্যস্ত করা। এর বিরুদ্ধে জোট বাঁধুন মা-বোনেরা। বিজেপি নোট দেবে। কিন্তু আপনারা ওদের ভোট দেবেন না। তার বদলে জোট বেঁধে ওদের রাজনৈতিক ভাবে বিদায়ের দরজা দেখিয়ে দিন।’
নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে কী কী চক্রান্ত বিজেপি সাজিয়েছে, তা এদিনও মমতা প্রকাশ্যে আনেন। বহিরাগতদের নাম বাংলার ভোটার লিস্টে ঢুকিয়ে বিজেপি-কমিশনের ভোট লুট করার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে ভেস্তে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লিখেছেন মমতা। সেকথা এদিন জনসমক্ষে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওদের প্ল্যান হল, খড়গপুর-আসানসোল সহ বেশ কিছু এলাকায় বাইরের রাজ্য থেকে ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে ভোট লুট করা। কিন্তু এই চক্রান্ত মানুষ ভেস্তে দেবে।’ একইসঙ্গে বাদ পড়া বিচারাধীন ভোটারদের জন্য আইনি সহায়তার কথাও জানান দলনেত্রী। জানান, দলের বিএলএ ১ এবং ২-এর উপর এব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গড়বেতার জনসভায় মমতা। -নিজস্ব চিত্র