নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী বছরই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে বঙ্গভঙ্গ সংক্রান্ত যাবতীয় বিতর্ক দূরে সরিয়ে রাখতে মরিয়া বঙ্গ বিজেপি। কারণ দলীয় মূল্যায়নেই উঠে এসেছে যে, বাংলা ভাগের এহেন তত্ত্ব কিংবা মন্তব্য-প্রতিক্রিয়া মোটেও মেনে নিচ্ছে না সাধারণ মানুষ। এই অবস্থায় উত্তরবঙ্গ ভাগ নিয়ে রীতিমতো ঢোঁক গিলছে দল। এই ইস্যুতে নিজের আগের অবস্থান থেকে কার্যত ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। সেইমতোই মঙ্গলবার দিল্লিতে শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ সহ উত্তরবঙ্গের বিজেপি এমএলএদের একটি অংশ বলেছেন, অনুন্নয়নের প্রশ্নে উত্তরবঙ্গের মানুষের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্নতার মানসিকতা থাকতেই পারে। কিন্তু রাজ্য বিজেপি সবসময়ই অখণ্ডতার কথা বলে এসেছে।
মঙ্গলবার দিল্লিতে উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের একটি অংশ যখন উল্লিখিত মন্তব্য করছেন, তখন এখানে প্রস্তুতি চলছে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেরও। আজ, বুধবার দিল্লিতে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডেকেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পাহাড়, ডুয়ার্সের প্রতিনিধিরা ছাড়াও এই বৈঠকে থাকার কথা রাজ্য সরকারেরও। গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কেন্দ্রের ডাকা বৈঠকের আগের দিন উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের এহেন মন্তব্যকে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে সোমবারই দিল্লিতে এসেছেন উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়করা। অন্তত ন’থেকে দশজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা থাকলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত চারটের বেশি মন্ত্রকে সাক্ষাতই হল না বিজেপি বিধায়কদের। যদিও শঙ্করবাবুরা জানিয়েছেন, আজ এবং কাল দু’দিনও বাকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন তাঁরা। আগামী বছর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে বঞ্চনার ইস্যুকেই মরিয়া হয়ে আঁকড়ে ধরতে চাইছে বিজেপি শিবির। এই প্রশ্নেই এড়ানো হচ্ছে বঙ্গভঙ্গের প্রসঙ্গ। রাতে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দিল্লির সরকারি বাসভবনে আলাদা করে বৈঠক করেছেন উত্তরবঙ্গের দলীয় বিধায়করা।