সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: আবাস যোজনায় বেলাগাম কাটমানি, ড্রেন না বানিয়েই ভুয়ো বিল পেশ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পার্কের টেন্ডারের টাকা উধাও সহ পুরসভার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগে সোচ্চার হল ভারতীয় জনতা পার্টি। সোমবার এই সব অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠল ধুলিয়ান পুরসভা চত্বর। কাটমানির বকেয়া টাকা ফেরত, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অবিলম্বে বর্তমান পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার দাবিতে সুর চড়ালেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। জানা গিয়েছে, এদিন দলীয় নেতা ষষ্ঠীচরণ ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের ঘরে গিয়ে স্মারকপত্র তুলে দেয়। বিজেপির স্পষ্ট অভিযোগ, আবাস যোজনায় সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে স্থানীয় গরিব মানুষের কাছ থেকে জোর করে কাটমানি আদায় করা হয়েছে। এমনকি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্কের চেকবুক পর্যন্ত আটকে রাখার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অবিলম্বে সেই কাটমানি ও আটকে রাখা চেকবুক আসল মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে। শুধু আবাসের টাকা নয়, পুর তহবিলের হিসাব নিয়েও বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির দাবি, পুরসভার সংহতি পার্কের টেন্ডার বাবদ পাওয়া প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকার কোনো হদিশ নেই। সরকারি কোষাগারে জমা না পড়ে এই বিপুল অংকের টাকা কার পকেটে গেল, তা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের টোল ট্যাক্স আদায়ের হিসাব গোপন করা এবং কাগজে-কলমে ড্রেন নির্মাণ দেখিয়ে বিপুল টাকা নয়ছয় করার মতো বিষয়েও স্পষ্ট জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে। আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি শহরের বেহাল নাগরিক পরিষেবা নিয়েও পুর কর্তৃপক্ষকে বিঁধেছে শাসকদল। বৃষ্টি হলেই জলযন্ত্রণা, নিকাশিনালার তথৈবচ অবস্থা এবং অব্যাহত গঙ্গা দূষণ নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ তুঙ্গে পৌঁছেছে। বিজেপির বক্তব্য, বর্তমান বোর্ডের স্বজনপোষণ ও আর্থিক লুটের কারণেই ধুলিয়ানবাসী তাঁদের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুরবোর্ড ভেঙে না দিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।



