Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মতুয়া ক্ষোভের চাপে বিজেপি! শেষ মুহূর্তে মোদির সভাস্থল বদলে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’?

শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাস্থল বদল। বনগাঁর পরিবর্তে ‘মতুয়াগড়’ ঠাকুরনগরে জনসভা করতে আসছেন তিনি

মতুয়া ক্ষোভের চাপে বিজেপি! শেষ মুহূর্তে মোদির সভাস্থল বদলে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’?
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাস্থল বদল। বনগাঁর পরিবর্তে ‘মতুয়াগড়’ ঠাকুরনগরে জনসভা করতে আসছেন তিনি। ২৬ এপ্রিল ঠাকুরবাড়ি লাগোয়া মাঠে এই সভা হবে। মঙ্গলবার বিকালে সূচি পরিবর্তনের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নের ঝড় ওঠে। ভোটের ঠিক আগে মতুয়াদের অসন্তোষের আঁচ টের পেয়েই জায়গা বদল? অনেকে আবার এটাকে বিজেপির ঘরোয়া শক্তি প্রদর্শন বলেও মনে করছেন। ঠাকুরবাড়ি লাগোয়া বিস্তীর্ণ মাঠেই সভা হবে বলে স্থির হয়েছে। মাঠের একাংশে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি হবে। গাইঘাটা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা ঠাকুরবাড়ির প্রতিনিধি সুব্রত ঠাকুর ইতিমধ্যেই অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠক করে ময়দানে কপ্টার নামার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তাছাড়া দলীয় নেতৃত্বদের নিয়েও তিনি বৈঠক করছেন। মাঠের প্রস্তুতির সমান্তরালে জমাট বাঁধছে অসন্তোষের স্রোত!

Advertisement

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় মতুয়া সমাজে ক্ষোভ চরমে। সরকারি হিসাব বলছে, বনগাঁ মহকুমার চার কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ৮৫ হাজার ৩৯২ জনের নাম নেই। বাদ যাওয়া ভোটারদের সিংহভাগই মতুয়া সম্প্রদায়ের। যা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপির সামনে। মতুয়া মহল্লায় এখন কানপাতলেই বিজেপির বিরুদ্ধে কথা শোনা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, নাগরিকত্বের নাম করে বহুদিন ধরেই প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করেছে বিজেপি। ‘গাজর ঝুলিয়ে’ ভোটের বৈতরণী পার করেছে পদ্মপার্টি। বাস্তবে নাগরিকত্বের সুরাহা হয়নি, উলটে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। ফলে নাগরিকত্বের স্বপ্ন এখন অবিশ্বাসের আঁতুরঘরে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। ক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্য। ক’দিন আগে বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে শাহ বলেছিলেন, এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। এই মন্তব্যেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে মতুয়া সমাজে। এই দ্বৈত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। 
মতুয়া গোঁসাই শ্রীদাম হালদারের কথায়, প্রথমে নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি, তারপর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, এখন আবার তাড়ানোর হুমকি। বিশ্বাস করব কীভাবে? এই প্রেক্ষাপটেই বনগাঁ থেকে সভা সরিয়ে ঠাকুরনগরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এভাবেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টা করছে বিজেপি। কারণ, গাইঘাটা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ ও বাগদা— এই চার কেন্দ্রেই মতুয়া ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। এর মধ্যে গাইঘাটায় সুব্রত ঠাকুর ও বাগদায় সোমা ঠাকুর বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হওয়ায় ঠাকুরবাড়ির প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
২৬ এপ্রিলের সভা নিছক একটি নির্বাচনি কর্মসূচি নয়, এটি কার্যত বিজেপির অগ্নিপরীক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই প্রসঙ্গে সুব্রত ঠাকুর বলেন, আগামী ২৬ এপ্রিল ঠাকুরবাড়ি লাগোয়া মাঠেই নির্বাচনি সভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা এনিয়ে বৈঠক করেছি। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পালটা তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, মতুয়া সমাজের সর্বনাশ করেছে বিজেপি। আর এখন ঠাকুরবাড়িতে এসে তিনি ভোট চাইবেন এটা লজ্জার।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ