রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: দেশজুড়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘু শ্রেণির মন পেতে বাড়তি সক্রিয় হল বিজেপি। আজ সোমবার, ঈদ উপলক্ষ্যে সারা দেশে মুসলমান ধর্মাবলম্বী মানুষকে বিশেষ উপহার পাঠাবে গেরুয়া পার্টি। ‘সওগাত-এ-মোদি’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের এই অংশের ভোটারদের কাছে টানার কৌশল নিয়েছে পদ্ম শিবির। ওয়াকফ বোর্ড বিল নিয়ে চাপে রয়েছে কেন্দ্রীয় শাসক দল। এই আবহে ঈদের উৎসবে শরিক হয়ে ঐক্য ও সাম্যের বার্তা দিতে চাইছেন মোদি-শাহরা। একইভাবে ‘গুড ফ্রাই ডে’তে দেশের খ্রিস্টান জনতাকে স্পেশাল গিফট পাঠাবে বিজেপি। সব মিলিয়ে সংখ্যালঘুদের কাছে টানতে উপহার বিলির নয়া পন্থা চালু করতে চলেছে সদস্য সংখ্যার বিচারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পার্টি। সূত্রের দাবি, এই বিশেষ কর্মসূচির সার্বিক পরিকল্পনা করতে ১৬ মার্চ দিল্লিতে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়ছিল। সর্বভারতীয় বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রদেশ সভাপতিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পার্টির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দুষ্মন্ত গৌতম সেখানে সংখ্যালঘুদের জন্য এই উপহার পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানান।
এই প্রসঙ্গে দিল্লির এক নেতা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সর্বভারতীয় বিজেপির সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার এক মন্তব্য মনে করিয়ে দেন। রীতিমতো অহংকারের সুরে নাড্ডা বলেছিলেন, আরএসএসের পরামর্শ তাঁরা আর চান না। বিজেপি এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। সেই নির্বাচনে ৪০০ আসন পার করার স্লোগান দেন তাবড় নেতারা। কিন্তু ফল বেরতেই দেখা যায়, বিজেপি আটকে গিয়েছে ২৪০-এ! জোট সরকার গড়তে বাধ্য হন নরেন্দ্র মোদি। তারপরই মোদি-শাহদের একচ্ছত্র ক্ষমতায় টান পড়ে। ওড়িশা, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লি বিধানসভা ভোটে রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় সঙ্ঘ। সেই সূত্রে রবিবার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি নাগপুরে আরএসএসের হেড কোয়ার্টারে গিয়ে নতমস্তকে প্রয়াত শীর্ষ প্রচারকদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দিল্লির ওই নেতা আরও বলেন, সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত সমৃদ্ধ ভারত গড়ার ডাক দিয়েছেন। সেই সমাজ গঠনে দেশের সংখ্যালঘু মানুষের প্রত্যক্ষ অংশীদারিত্বের পক্ষে বারবার সওয়াল করেছেন ভাগবত। ঈদ এবং গুড ফ্রাই ডে উপলক্ষ্যে বিশেষ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উপহার বিলির মাধ্যমে আরএসএসের ‘লাইন’ ধরতে চাইছে বিজেপি।
তবে কেন্দ্রীয় পার্টির এই নির্দেশ বাংলায় তেমন একটা কার্যকর করা যাবে না। এমনটাই মত বঙ্গ বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি চার্লস নন্দীর। তাঁর কথায়, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাজ্যে ‘সওগাত-এ-মোদি’ আয়োজন করা সহজ। কিন্তু বাংলায় যুব ও শিক্ষিত মুসলমান মানুষ বিজেপির উন্নয়নে শামিল হতে চাইলেও তৃণমূলের ভয়ে তাঁরা আমাদের উপহার কতটা গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।