দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদির ক্যারিশ্মায় ভরসা নেই? এই প্রশ্ন উঠছে। কারণ, আগামী বছর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী মুখ সামনে রেখেই লড়াইয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একপ্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছে বিজেপি। সেই মর্মে বঙ্গ ব্রিগেডের কাছে বার্তাও পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু এই ইস্যুতে সঙ্ঘ পরিবারের একের পর এক ‘শর্ত’ পালন করতে গিয়েই রীতিমতো বিপাকে পড়তে হচ্ছে দলকে। আরএসএসের শীর্ষস্তর থেকে নিদান দেওয়া হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ‘মুখ’ বাছাই হলে তাঁর সঙ্ঘের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ থাকতেই হবে। না হলে বাংলায় সংশ্লিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নামে অনুমোদনই দেবে না সঙ্ঘ পরিবার। অর্থাৎ, সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ মুখ সামনে রেখেই বাংলায় বিধানসভা ভোটে লড়ুক বিজেপি। এটা সাফ বুঝিয়ে দিয়েছে সঙ্ঘ। বঙ্গ নেতৃত্বকে তাদের সাফ বার্তা, অতীতের নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রে কেউ ভালো ফল করে থাকলেই যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে বিবেচ্য হবেন, এমন ভেবে নেওয়ার কারণ নেই। বরং ভোটে বঙ্গ বিজেপির মুখ হওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে সঙ্ঘের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকতেই হবে।
আপাতত গেরুয়া শিবিরের অন্দরে এটিই অন্যতম চর্চার বিষয়। কারণ, আরএসএসের এহেন ‘বার্তা’র পর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মুখ বাছাই নিয়ে তাই নতুন বিকল্প খোঁজায় জোর বাড়াচ্ছে বাংলার গেরুয়া শিবির। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই শর্ত মানতে হলে ইতিমধ্যেই চর্চায় থাকা বঙ্গ বিজেপির এক দলবদলু নেতার সম্ভাবনা ক্রমশই কমবে। কারণ তাঁর সেই অর্থে সঙ্ঘ ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ নেই। শুধুমাত্র সাংগঠনিকভাবে সোচ্চার থাকার জন্যই যে কোনও নেতা বা নেত্রীকে বাংলায় সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সঙ্ঘ পরিবার বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেবে, সেই ধারণা হিমঘরে চলে যাচ্ছে।
এই ইস্যুতে বুধবার দিল্লিতে রাজ্য বিজেপির অন্যতম সহ-সভাপতি তথা সাংসদ এবং সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত জগন্নাথ সরকার ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেছেন, ‘বিজেপি একটি আদর্শবাদী দল। ফলে বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে কাউকে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা যদি হয়েও থাকে, তাহলে তা বিজেপির ঘরানা মেনেই হওয়া প্রয়োজন। কারণ বিজেপি তথা সঙ্ঘের একটি নির্দিষ্ট পরিচয় আছে। কোনওমতেই তা ক্ষুণ্ণ হওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি যিনি সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন, তাঁর রাজনৈতিক স্বচ্ছতাও থাকতে হবে। সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে, তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ফারাক কোথায়। দল এবং সঙ্ঘের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নিশ্চয়ই সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ বঙ্গ বিজেপির কর্তাব্যক্তিরা বুঝে গিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে কোনও মুখ সামনে না আনলে ভোটে ফের ব্যর্থতাই ধরা দেবে। কারণ, ভোট দিতে যাওয়ার সময় বাংলার মানুষ গ্রহণযোগ্য মুখ দেখতে চায়। এমনকী বিভিন্ন সময় দলীয় মূল্যায়নেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। এবার তাই নির্বাচনী কৌশল পাল্টাতে মরিয়া বিজেপি।