নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পরাজিত প্রার্থীদের উপর আস্থা রেখেই ভোটের বৈতরণী পার করার চেষ্টা বিজেপির। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রে এবার ২০২১ সালের পরাজিত প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অন্য দল থেকে এসেছিলেন। ডায়মন্ডহারবার, বিষ্ণুপুর, বজবজ, কাকদ্বীপ কেন্দ্রে সেই পরাজিতরাই ভোটে লড়বেন। রায়দিঘিতে যাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছে, তিনি ২০২১ সালে গোসাবা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। সোমবার বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই চাপা অসন্তোষ দানা বেঁধেছে দলীয় কর্মীদের মধ্যে। তাঁরা যেমন প্রার্থী চেয়েছিলেন, তার প্রতিফলন প্রার্থী তালিকায় ঘটেনি, এমনটাই দাবি কর্মীদের একাংশের।
এদিকে, বিষ্ণুপুরে প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ। কেউ লিখেছেন, ভোটের আগেই পরাজয় নিশ্চিত বিষ্ণুপুরে, কারও দাবি, একাধিক আসনে হারবে বিজেপি। নীচুতলায় একটাই প্রশ্ন, আর কি কেউ ছিল না দাঁড়ানোর? ২০২১ সালে বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হেরেছিলেন ৫৮ হাজার ভোটে। বজবজে কার্যত একই ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন পদ্মপার্টির প্রার্থী। কাকদ্বীপে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হেরেছিলেন ২৫ হাজার ভোটে। পাঁচ বছর আগে যাঁরা পরীক্ষায় ডাহা ফেল করেছিলেন, তাঁদের উপরেই ভরসা রেখেছে বিজেপি। এর মধ্যে রয়েছেন কয়েকজন, যাঁরা অন্য দল থেকে এসেছেন। বিজেপির ডায়মন্ডহারবার ও মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার প্রার্থী তালিকায় নতুন কোনো চমক নেই। ডায়মন্ডহারবারে এবারও তৃণমূল থেকে আসা দীপক হালদারকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। সিপিএম থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েই ২০২১ সালে বিষ্ণুপুরের প্রার্থী হয়েছিলেন অগ্নিশ্বর নস্কর। এবারও তাঁকে দল প্রার্থী করেছে। এই নিয়ে চাপা অসন্তোষ আছে দলীয় কর্মীদের মধ্যে। এই সাংগঠনিক জেলায় যেমন প্রার্থী চাওয়া হয়েছিল, তেমনটি হয়নি বলেই দাবি কর্মীদের। বিষ্ণুপুরে অনেকেই আশা করেছিলেন, এলাকার ভূমিপুত্র এবং বিজেপির দীর্ঘদিনের নেতা সুফল ঘাটুকে প্রার্থী করবে দল। কিন্তু শেষ অবধি তা হয়নি। মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলায় কাকদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর জানাকে নিয়েও দলীয় কর্মীদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ রয়েছে। এ নিয়ে বিজেপির অন্দরে কতটা আঁচ পড়বে, তা আন্দাজ করতে পারছেন না নেতারা। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক নেতার কথায়, প্রার্থী নিয়ে অন্যরকম আশা ছিল কর্মীদের। এবার তা পূরণ না হওয়ায় ভোটে তার প্রভাব কেমন পড়বে, সেটাই দেখার। এদিকে, জয়নগর সাংগঠনিক জেলায় যে ক’টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হয়েছে, তা নিয়ে অবশ্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া মেলেনি।