Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্ধ থাকা সাউথখণ্ড পঞ্চায়েত অফিসে বিজেপির হানা, উদ্ধার আপত্তিকর দ্রব্য

গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসের তিনতলায় গেস্টরুম। তালাবন্ধ সেই রুমের ভিতর থেকে শাড়ি, সাজগোজের সামগ্রী, রেশনকার্ড, জুয়ার বোর্ড সহ আপত্তিকর কিছু সামগ্রী উদ্ধার হল।

বন্ধ থাকা সাউথখণ্ড পঞ্চায়েত অফিসে বিজেপির হানা, উদ্ধার আপত্তিকর দ্রব্য
  • ২৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসের তিনতলায় গেস্টরুম। তালাবন্ধ সেই রুমের ভিতর থেকে শাড়ি, সাজগোজের সামগ্রী, রেশনকার্ড, জুয়ার বোর্ড সহ আপত্তিকর কিছু সামগ্রী উদ্ধার হল। ফ্রিজের ভিতর মিলল ঠান্ডা পানীয়, আচার। পটাশপুর-২ ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসের ভিতর থেকে ওইসব সামগ্রী উদ্ধার হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। গত ৪মে ভোটের ফল প্রকাশের পর পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যাচ্ছেন না তৃণমূলের প্রধানরা। সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা তৃণমূল নেতা বিজনবন্ধু বাগ ভোটের ফল প্রকাশের পর অফিসমুখো হননি। পঞ্চায়েত অফিসের দোতলায় তাঁর অফিসে তালা ঝুলছিল। একইসঙ্গে তিনতলায় পঞ্চায়েতের নিজস্ব গেস্টরুমেও তালা লাগানো ছিল।

Advertisement

শুক্রবার বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল কমিটির সহ সভাপতি আশিসকুমার পণ্ডা, জেলা কমিটির সদস্য বিবেকানন্দ দাস সহ আরও অনেকে সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যান। সঙ্গে পটাশপুর থানার পুলিশও ছিল। প্রধানের অফিসের চাবি পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি বিশ্বজিৎ বারুইয়ের কাছে ছিল। তাঁর কাছ থেকে চাবি সংগ্রহ করে বিজেপি কর্মীরা ভিতরে ঢোকেন। প্রধানের রুমের ভিতর জুয়ার বোর্ড পাওয়া যায়। এছাড়া আলমারি থেকে প্রচুর রেশনকার্ড বেরিয়ে আসে। ওইসব সামগ্রী উদ্ধার ঘিরে হইচই পড়ে। পুলিশ গোটা ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করে। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পঞ্চায়েতের কর্মীরা বিডিওকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান।
এরপর বিজেপি কর্মীরা পঞ্চায়েত অফিসের তিনতলায় যান। গেস্টরুমে তালা লাগানো ছিল। চাবি খোঁজার পরিবর্তে বিজেপি কর্মীরা তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন। ভিতরে ছিল স্টিলের বড় খাট ও তোষক। বিছানার উপর একটি শাড়ি পড়েছিল। তোষক তুলতেই বেরিয়ে আসে আপত্তিকর জিনিসের প্যাকেট। বিজেপি কর্মীরা সেসব পুলিশ কর্মীদের নজরে আনেন। মেয়েদের সাজগোজের সামগ্রীও উদ্ধার হয়। পঞ্চায়েত অফিসের ভিতর এমন ‘রোমান্টিক রুম’ নিয়ে হূলস্থূল পড়ে যায় গোটা অফিসে। অনেকেই বলেন, পঞ্চায়েত অফিসকে ভোগবিলাসের কেন্দ্র বানিয়ে ফেলেছিলেন পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতারা।
বিজেপির মণ্ডল সহ সভাপতি আশিসকুমার পণ্ডা বলেন, পঞ্চায়েত অফিসের ভিতর শাড়ি, সাজগোজের জিনিস থেকে আপত্তিকর সামগ্রী সবই রাখা ছিল। সন্দেশখালির শাহাজানের মতোই মা-বোনেদের উপর অত্যাচার করতেন এখানকার পঞ্চায়েত প্রধান। আমরা গোটা বিষয়টি জনগণের সামনে এনেছি। এই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ছাপ্পা মেরে বোর্ড দখল করেছিলেন। এবার গণতান্ত্রিক ভোটে তাঁদের সরে যেতে হয়েছে। এই বিজনবন্ধু বাগ অনেক নিরীহ মানুষজনের উপর অত্যাচার করেছেন। জমিজায়গা কেড়ে নিয়েছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মা-বোনেদের উপর অন্যায় অত্যাচার করা হয়েছে।
পঞ্চায়েত প্রধান বিজনবন্ধু বলেন, ৪মে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে অফিসে যাইনি। নব্য বিজেপির কিছু লোকজন শুক্রবার অফিসে গিয়ে পঞ্চায়েতের সেক্রেটারির কাছ থেকে জোরকরে আমার রুমের চাবি নিয়ে ভেতরে ঢোকেন। কয়েকদিন আগে একটা জুয়ার বোর্ডে খেলা হচ্ছিল। এলাকার লোকজন সেটি হাতেনাতে ধরে অফিসে এনেছিলেন। সেটি আমার রুমে রাখা ছিল। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের তৈরি শাড়ির একটি স্যাম্পেল আমার অফিসে আলমারিতে ছিল। সেটি আলমারি থেকে তিনতলায় গেস্টরুমে নিয়ে গিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে। ভবনের তিনতলায় গেস্টরুম আছে। সেখানে কোনও আপত্তিকর সামগ্রী ছিল না। এটা সাজানো ঘটনা। ১৬০-১৬৫টি রেশনকার্ড ছিল। সেগুলি ডুপ্লিকেট, নাম সংশোধন এধরনের কার্ড। কোনও কার্ড বৈধ উপভোক্তার ছিল না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ