সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: সংগঠন নিয়ে ল্যাজেগোবরে অবস্থা। যার জেরে আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতির নামই ঘোষণা করতে পারল না বিজেপি। দোল পূর্ণিমায় রাজ্যের অন্য জেলার মতো তারা কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং শিলিগুড়িতেও জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা করেছে। তবে চা বলয়ের আলিপুরদুয়ারে সংগঠনের গুরুদায়িত্ব দেওয়ার মতো লোক পাচ্ছে না গেরুয়া শিবির। শুধু জেলা সভাপতিই নয়, মণ্ডল সভাপতিদের নাম ঘোষণা এখনও অধরা। এই মুহুর্তে দলের পরবর্তী জেলা সভাপতি হিসাবে মিঠু দাস এবং নারায়ণ মণ্ডলের নাম নিয়ে চর্চা চললেও ঘোষণা না হওয়ায় ধৈর্য হারাচ্ছেন দলের নিচুতলার কর্মীরা। ক্ষুব্ধ জেলা বিজেপি নেতৃত্বের একাংশও। তাঁদের অভিযোগ, এর জেরে দলীয় সাংগঠনিক কাজকর্ম মুখ থুবড়ে পড়েছে।
আলিপুরদুয়ারে বিজেপির ২৪টি মণ্ডল রয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে ভোট কমে যাওয়ায় এবং মাদারিহাট উপনির্বাচনে হেরে যাওয়ায় জেলায় বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকট হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, সেই কারণে ১০টি মণ্ডলের সভাপতিদের নাম এখনও ঘোষণা করতে পারেনি বিজেপি।
দলের ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে শুক্রবার বিজেপি ২৫টি জেলার সভাপতির নাম ঘোষণা করে। কিন্তু আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। নেতৃত্বকে দলের অন্দরে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা বর্তমানে দলের জাতীয় পরিষদ সদস্য গুণধর দাস বলেন, এখনও ১০টি মণ্ডলের সভাপতিদের নাম ঘোষণা হল না। জেলা সভাপতির নাম ঘোষণাও হল না। এই ঘটনার জন্য দলের কর্মীদের মনোবল কমছে। দলীয় নেতৃত্বের বোঝা উচিত, কর্মীরা কিন্তু এই ঘটনায় ক্রমশ ধৈর্য হারাচ্ছেন। দলের সাংগঠনিক কাজকর্মও পিছিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, তৃণমূল ইতিমধ্যেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। কিন্তু দলের বাকি মণ্ডল, জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা না হওয়ায় ছন্নছাড়া ও দিশেহারা অবস্থা বিজেপির নিচুতলার কর্মী সমর্থকদের।
যদিও বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা ফালাকাটার বিধায়ক দীপক রায় বলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। দ্বিতীয় ধাপে দলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা হবে। জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা হলেই বাকি মণ্ডলগুলির সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হবে। আমরা দলীয় কর্মী সমর্থকদের ধৈর্য ধরতে বলছি।