সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: পৃথক পুরসভা নয়। শিলিগুড়ি পুরসভার সঙ্গে মাটিগাড়া, বাগডোগরা, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িকে জুড়তে চায় বিজেপি। তাদের লক্ষ্য ‘বৃহত্তর শিলিগুড়ি’। তারা এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বুধবার একথা বলেন বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল। রাজ্যে পালাবদলের ছ’মাসের মধ্যে পুরসভা নিয়ে ফের প্রস্তাব বদল। এনিয়েই শহরের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
মঙ্গলবার শিলিগুড়ি পুরসভা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরসভার এলাকা বাড়ানো নিয়ে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট জমানার দাবি ফের সামনে এনেছে বিজেপি। তারা শিলিগুড়ি পুরসভার সঙ্গে মাটিগাড়া, নকশালবাড়ি ও রাজগঞ্জ এই তিনটি ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়তে চাইছে। সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলির দু’টি বিধানসভা কেন্দ্র, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির অধীনে।
এদিন বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলেন, কলকাতার পর রাজ্যে বড়ো পুরসভা শিলিগুড়ি। পুরভবন পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখানে নতুন বাড়ি তৈরির মতো জায়গা নেই। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই বিজেপির জেলা সভাপতির বক্তব্য, বিএজন্যই এই শহরের এলাকা বাড়াতে চাইছি। শহরের অধীনে মাটিগাড়া, উত্তরায়ন, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাগডোগরা, ডাবগ্রাম, ফুলবাড়ি প্রভৃতি গ্রামীণ এলাকাকে আনতে চাই। শীঘ্রই এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
শিলিগুড়ি পুরসভার এলাকা বাড়ানোর দাবি বহুদিনের। মাঝে সংশ্লিষ্ট দাবি প্রত্যাহার করা হয়। পরিবর্তে মাটিগাড়া, শিবমন্দির ও বাগডোগরা নিয়ে একটি এবং ডাবগ্রাম ও ফুলবাড়ি নিয়ে আরএকটি, মোট দু’টি পুরসভা তৈরির দাবি ওঠে। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার দাবিগুলিতে সিলমোহর দেয়। এখন আবার সেই দাবি বাতিল করে শিলিগুড়ি পুরসভার এলাকা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে।
কেন এমন। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি বলেন, মানুষ আমাদের উজার করে ভোট দিয়েছে। এবার আমাদের দেওয়ার পালা। সংশ্লিষ্ট গ্রামীণ এলাকাগুলির চেহার আমূল বদলেছে। নাগরিক পরিষেবার মান বাড়াতেই ওই এলাকাগুলিতে পুরসভা গঠনের দাবি উঠেছে। কিন্তু, পুরসভা হলেও নাগরিকদের চাহিদা পূরণ হবে বলে মনে হয় না। তাই পৃথক দু’টি পুরসভা না করে ওই ব্লকগুলিকে শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের সঙ্গে জুড়ে বৃহত্তর শিলিগুড়ি গড়ার প্রস্তাব রাজ্যকে দিচ্ছি।
প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ি পুরসভার এলাকা একই রেখে ওয়ার্ড বিন্যাসের প্রাথমিক কাজকর্ম শেষ হয়েছে। এখানকার ওয়ার্ড সংখ্যা ৪৭ থেকে বাড়িয়ে ৬৩টি ওয়ার্ড হওয়ার কথা। পাশাপাশি, আসন সংরক্ষণের প্রক্রিয়া চলছে।
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে ভোট হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে পুরসভার এলাকা বৃদ্ধির দাবি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, মানুষ ভোট দিলেও বিজেপি উন্নয়ন করতে ব্যর্থ। তাই পুরভোটের মুখে চমক দিতেই ওই প্রস্তাব।



