সংবাদদাতা, তেহট্ট: বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ জমা পড়ল বিডিওর কাছে। সোমবার সেই অভিযোগ লিখিতভাবে জমা দিলেন বিরোধী দলনেত্রী। ঘটনা তেহট্ট-১ ব্লকের ছিটকা গ্রাম পঞ্চায়েতের। সেই সঙ্গে এই অভিযোগে শনিবার থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতে তালা বন্ধ করে রাখে তৃণমূল। তাঁদের দাবি তালা বন্ধ না থাকলে নথিপত্র সরিয়ে ফেলতে পারে প্রধান। সোমবার সেই তালা পুলিস, ব্লক প্রশাসন, পুলিস ও পঞ্চায়েত সদস্যদের সামনে খুলে ব্লক অফিসে নথিপত্র নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে পঞ্চায়েত খোলা থাকে।
ছিটকা গ্রাম পঞ্চায়েত গত দুটি পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির দখলে আছে। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান প্রধান বিজেপির সুতপা টিকাদার। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন বিরোধী দলনেত্রী সাগরিকা মণ্ডল। তিনি লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, ১৫ নম্বর সংসদে ১৩৬ নম্বর গভীর নলকুপে কৃষি নিকাশি নালা করার জন্য টেন্ডার করা হয়। সেই নিকাশি নালাটির মাপ ছিল ১৯৫ মিটার। ব্যয় ধরা হয়েছিল তিনলক্ষ টাকা। এই কাজটি যে ঠিকাদার পান তিনি ৪২. ৮৫ শতাংশ কমে কাজটি করেন। তাতে সম্পূর্ণ কাজটি হওয়ার কথা ছিল এক লক্ষ একাত্তর হাজার চারশো পঞ্চাশ টাকায়। পরে দেখা যায় সেই কাজটি মাত্র ১০৫ মিটার হয়েছে। সেই কাজের দরুন ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৩৯ টাকা সেই ঠিকাদার তুলে নিয়েছে। সাগরিকা দেবী অভিযোগ করে বলেন, প্রথমত নিকাশি নালাটি ৯০ মিটার কম করা হয়েছে। এই কাজে যেহেতু ঠিকাদার কম টাকায় কাজ ধরেছে তাই সম্পূর্ণ নিকাশি নালা করতে বাজেট নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় কম টাকা লাগবে। অথচ পঞ্চায়েত প্রায় সম্পূর্ণ টাকা ওই ঠিকাদারকে দিয়ে দিয়েছে। এটা সরকারি টাকা তছরুপ।
এতে প্রধান সহ যারা দোষী তদন্ত করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে প্রশাসনকে। এই বিষয়ে প্রধান সুতপা টিকাদারকে ফোন করা হলে তা বন্ধ ছিল। এ ব্যাপারে জানতে মেসেজ করা হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। বিডিও সঞ্জীব সেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।