নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইতকে তোলাবাজ বলে আক্রমণ করেছিলেন শহিদ মাতঙ্গিনী বল্লুক-১ পঞ্চায়েতের বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান পলি দিন্ডা প্রামাণিক। পাল্টা পলিদেবীকে ২০২৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটে জেতার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন সভাধিপতি বামদেব। বুধবার জেলা পরিষদে বসে সভাধিপতি তথা বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বামদেব বলেন, ‘ওই পঞ্চায়েত প্রধানের দম থাকলে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হন। আর জিতে দেখান।’
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতির খাসতালুক শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে শুরু হয়েছে ক্ষমতা দখল নিয়ে বিজেপির কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি। ওই ব্লকের বল্লুক-১ গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। তারপরও গত ৩ জুলাই ওই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন বিজেপির সাত সদস্য। অনাস্থা আনা সদস্যরা সকলেই বামদেব ঘনিষ্ঠ। পঞ্চায়েত প্রধান পলিদেবী বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিবাকর জানার ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। সোমবার আস্থা ভোট ছিল। বামদেব শিবির আস্থা ভোটে প্রধানকে হারাতে পারেনি। বরং নিজেরাই পর্যুদস্ত হয়েছে। অনাস্থা আনা সাত সদস্যের মধ্যে তিনজন আস্থা ভোটে অংশ নেননি। মোট ১৭ জন পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে মাত্র চারজন আস্থা ভোটে অংশ নেওয়ায় প্রধানকে অপসারিত করা যায়নি।
আস্থা ভোটে নিজের চেয়ার অটুট থাকার পর বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেবকে নিশানা করে চূড়ান্ত আক্রমণ করেন। তিনি সভাধিপতিকে তোলাবাজ বলেন। ঠিকাদারদের থেকে সভাধিপতি তিন শতাংশ কাটমানি আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন। সেই টাকা দিতে না পারায় তাঁকে সরানোর ষড়যন্ত্র হয় বলে পলিদেবীর অভিযোগ।
ওই ঘটনার ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে সভাধিপতি পঞ্চায়েত প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। অন্যথায় মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দেন। কিন্তু, প্রধান নিজের বক্তব্যে অনড়। এই অবস্থায় মানহানির মামলা করার পথে না হেঁটে প্রধানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ঠুকলেন সভাধিপতি। বুধবার জেলা পরিষদে বসে বামদেব বলেন, প্রধান নিজের কাজ ঠিকমতো করতে পারছিলেন না। দলীয় স্তরে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু, তাতেও কাজ না হওয়ায় তাঁকে সরানোর জন্য অনাস্থা আনা হয়। যদিও সেই ভোটে তাঁকে সরানো যায়নি। এরপর তিনি আমাকে লক্ষ্য করে যা খুশি বলে গিয়েছেন। আমি তাঁকে চ্যালেঞ্জ করছি, দম থাকলে ২০২৮ সালে ভোটে প্রার্থী হয়ে এবং জিতে দেখান।
পলিদেবী বলেন, বামদেব গুছাইত গোষ্ঠী রাজনীতি করেন। তাঁর চ্যালেঞ্জ থেকেই পরিষ্কার, প্রার্থী হলে তিনি আমাকে হারানোর চেষ্টা করবেন। একজন বিজেপি নেতা হয়ে দলীয় প্রার্থীকে হারানোর এই সঙ্কল্প পার্টির কোন গঠনতন্ত্রে রয়েছে?