নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যে পালাবদলের পর রাতারাতি যাত্রী প্রতীক্ষালয় দখল করে গড়ে উঠেছে বিজেপি পার্টি অফিস! এই অভিযোগে এবার মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যে পালাবদলের পর রাতারাতি যাত্রী প্রতীক্ষালয় দখল করে গড়ে উঠেছে বিজেপি পার্টি অফিস! এই অভিযোগে এবার মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসের দাবি, ২০১৮-১৯ সালে সাংসদ ও বিধায়ক তহবিলের টাকায় ক্যানিং হাসপাতাল মোড়ে একটি যাত্রী প্রতীক্ষালয় তৈরি করা হয়েছিল। মূলত হাসপাতালের রোগীর আত্মীয় পরিজন ও পথচারীদের সুবিধার্থেই এই প্রতীক্ষালয় তৈরি করা হয়েছিল। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নিরাপদ আশ্রয়’। অভিযোগ, গত ৪ মে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাতারাতি ওই যাত্রী প্রতীক্ষালয়টি দখল হয়ে যায়। তার কিছুদিনের মধ্যে সেখানে গড়ে ওঠে বিজেপি পার্টি অফিস। বিধায়কের আরও দাবি, এলাকার বিজেপি কর্মী অর্ণব রায় ওই যাত্রী প্রতীক্ষালয়টি দখল করে পার্টি অফিস তৈরি করেছেন। তবে এই দখলদারির পরপরই ১১ মে জেলাশাসক, ক্যানিংয়ের এসডিও এবং ক্যানিং ১ নম্বরের বিডিওকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু তারপর দু’মাস কেটে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
দিন কয়েক আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলায় শুনানিতে যাবতীয় তথ্য তুলে ধরেন পরেশরামবাবুর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যের তরফে অবশ্য জানানো হয়, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনে তদন্ত করা হবে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে জানায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে অভিযোগ খতিয়ে দেখে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। বেআইনিভাবে ওই যাত্রী প্রতীক্ষালয় দখল হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সেইসঙ্গে জেলাশাসককে মামলাকারী সহ সবপক্ষকে বক্তব্য পেশের সুযোগ দিতে হবে বলেও নির্দেশে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস বলেন, ক্যানিং হাসপাতালের রোগীর আত্মীয়দের জন্য বিধায়ক ও সাংসদ তহবিলের টাকায় এই এসি প্রতীক্ষালয় বানানো হয়েছিল। সেটা জোর করে দখল করে এক ব্যক্তি নিজের পার্টি অফিস বানিয়েছিল। আদালতের রায়ে ক্যানিংয়ের মানুষ খুব খুশি হবে।