Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / কলকাতা

বন্ধ দোকান খুলেছিল বিধায়কের হস্তক্ষেপে, বরানগরে ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মার বিজেপি মণ্ডল সভাপতির

পালাবদলের পর পুজো কমিটির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব

বন্ধ দোকান খুলেছিল বিধায়কের হস্তক্ষেপে, বরানগরে ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মার বিজেপি মণ্ডল সভাপতির
  • ২৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পালাবদলের পর পুজো কমিটির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। গতবার যিনি পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন, তাঁকে দোকান বন্ধ রাখার ফরমানের পাশাপাশি বিদায়ী কমিটির সম্পাদকের কাছ থেকেও কয়েক লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পরে বিধায়কের হস্তক্ষেপে বন্ধ দোকান খুলেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। কিন্তু সেই স্থিতাবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দোকান খোলার সাতদিনের মাথায় ব্যবসায়ী ও তাঁর অসুস্থ ভাগ্নেকে দোকান থেকে বের করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। ওই ব্যবসায়ীর পাঁজরের একাধিক হাড় ভেঙেছে। তিনি এখন বাড়িতে শয্যাশায়ী। মণ্ডল সভাপতি সহ বিজেপির সাত নেতা-কর্মীর নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বরানগরের নিয়োগীপাড়ার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে মতামতের জন্য বিধায়ক সজল ঘোষকে ফোন করার পাশাপাশি মেসেজ করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

Advertisement

বরানগরের নিয়োগীপাড়ার এম বি সরণিতে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর মুদিখানার দোকান রয়েছে। তাঁর দোকানের পাশেই রয়েছে দর্জিপাড়া নিয়োগীপাড়া দুর্গোৎসব ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। ২৭ বছর ধরে এই সংগঠনের উদ্যোগে দুর্গাপুজো হয় এলাকায়। এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক চঞ্চল বিশ্বাস। বিশ্বনাথবাবু বছর তিনেক হল এই পুজোর কোষাধ্যক্ষ হয়েছিলেন। 
অভিযোগ, ভোটের ফল বেরনোর পর বিজেপির বরানগর ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সঞ্জয় অধিকারীর নেতৃত্বে পুজো কমিটি দখলের চেষ্টা করা হয়। ক্রমাগত হুমকি ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে পুজো কমিটির যাবতীয় কাগজপত্র, ব্যাংকের নথি, বিল নিয়ে নেন তাঁরা। তাতেও সমস্যা মেটেনি। বিশ্বনাথবাবুর মুদিখানার দোকান বন্ধের ফরমান জারি করা হয়। চঞ্চলবাবুকে বলা হয়, ক্লাব ঘর দোতলা করে দিতে হবে। নাহলে দু’ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তিনি রাজি হননি। এরপর চঞ্চল বিশ্বাস ও বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বিধায়ক সজল ঘোষের দ্বারস্থ হন। বিধায়কের হস্তক্ষেপে ফের দোকান খোলেন বিশ্বনাথবাবু। অভিযোগ, রবিবার রাতে মণ্ডল সভাপতির নেতৃত্ব দলের যুব নেতা সৌরভ সামন্ত ও উত্তম দে সহ সাতজন তাঁর দোকানে চড়াও হন। তাঁরা বিশ্বনাথবাবু ও তাঁর অসুস্থ ভাগ্নে স্বর্ণেন্দু আচার্যকে রাস্তায় ফেলে মারধর করেন। বিশ্বনাথবাবু বলেন, ‘আমার বুকের পাঁজরে ভেঙেছে। ওরা বলছিল, আমাদের নামে টাকা চাওয়ার অভিযোগ করেছিস। একেবারে শেষ করে ফেলব। বিধায়কের আশ্বাসে দোকান খুলেছিলাম। এখন দেখছি, পার্টির লোকেরা এসেই অত্যাচার করছে।’ চঞ্চলবাবু বলেন, ‘প্রথমে আমার কাছে পাঁচ লক্ষ চেয়েছিল, পরে তারা দু’লক্ষ টাকায় নেমেছিল। মায়ের আরাধনা করার জন্য এমন শাস্তি পাব, স্বপ্নেও ভাবিনি।’ মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী বলেন, সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। চক্রান্ত করে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। পুজো নিয়ে পাড়ার ঝাামেলায় আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ