দলীয় নিষেধাজ্ঞা উড়িয়েই পুজো কমিটির মাথায় বিজেপি নেতারা, ‘রাজনৈতিক কর্তৃত্ব’ প্রতিষ্ঠার প্রবণতা নিয়ে বারাসতে বিতর্ক
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতের কালীপুজো মানে শুধু দেবীর আরাধনা নয়, শহরের ঐতিহ্য এবং আবেগের উৎসব। এই পুজোকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে নানা ক্লাবের নিজস্ব পরিচিতি। কিন্তু সেই উৎসবের পরিচালনাকে ঘিরেই এবারও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত। অভিযোগ, রাজ্যে পালাবদলের পরেও পুজো কমিটির উপর ‘রাজনৈতিক কর্তৃত্ব’ প্রতিষ্ঠার প্রবণতা বন্ধ হয়নি। বরং বিজেপি নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পুজো কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলের অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে উদ্যোক্তারা অসন্তুষ্ট হলেও কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন!

Advertisement

বারাসতের একাধিক কালীপুজো দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে আসছে। পুজোর প্রস্তুতি থেকে আয়োজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা প্রতিমা দর্শন— সব ক্ষেত্রেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে। সেই পরম্পরায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগকে ঘিরে উদ্যোক্তাদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, পুজোকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচিতি বাড়াতে চাইছে নেতাদের একাংশ। কমিটির উপর চাপ সৃষ্টি করে নেতৃত্বের জায়গায় আসার চেষ্টা করছেন অনেকেই। ইতিমধ্যেই বিজেপির কয়েকজন পদাধিকারী বিভিন্ন পুজো কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। তৃণমূলের আমলেও পুজো কমিটির উপর শাসকদলের নেতাদের প্রভাব বিস্তার নিয়ে বার বার বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, পাড়ার উৎসবেও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, এক পক্ষকে কাজে লাগানোর অভিযোগ ছিল। এখন রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও সেই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। যে প্রবণতার বিরুদ্ধে এক সময়ে সরব হয়েছিল বিজেপি, দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে কেন সেই অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
উল্লেখ্য, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও পুজো কমিটি দখলের প্রবণতা নিয়ে একাধিকবার নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছেন। কিন্তু সেই নির্দেশের তোয়াক্কা না করে বারাসতে দলীয় নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার অভিযোগ উঠেছে। তবে দলের অন্দরেও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের একাংশের কথায়, পুজোর সংগঠন বোঝেন না, এমন কাউকে কমিটির মাথায় বসানো উচিত নয়। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। কিন্তু কেউ কেউ তা করছেন বলে মেনে নিয়েছে পদ্ম শিবিরের একাংশ। ফলে দলের অন্দরেও এ নিয়ে আড়াআড়ি মত তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এনিয়ে বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার এক নেতা বলেন, কোনো কোনো পদাধিকারী পুজো দখল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। বারাসতের কালীপুজোর ঐতিহ্য সর্বজনীনতা ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের উপর নির্ভরশীল। সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা পুজোর পরিবেশ ও উদ্যোক্তাদের স্বাধীনতা, দু’টিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।