পিস্তল উঁচিয়ে বিজেপি নেতার ছেলের গাড়ি থামিয়ে লুট
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাস কলকাতায় গাড়ি থামিয়ে গান পয়েন্টে নিয়ে সোনার চেন ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন শাসক দলের স্থানীয় এক বিজেপি নেতার ছেলে। জনবহুল বেহালার এসএনরায় রোডে ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত আটটা নাগাদ। ফিল্মি কায়দায় যেভাবে গোটা ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে তাতে আতঙ্কিত অভিযোগকারী ও তাঁর বন্ধু। কোনভাবেই ঘোর কাটছে না তাঁদের। রাতেই তাঁরা নিউ আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে থানা। খোঁজ চলছে বাকি অভিযুক্তদের।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী প্রথম সিং ব্যক্তিগত কাজ সেরে  পর্ণশ্রীতে বাড়ি ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর এক বন্ধু। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন অভিযোগকারী।  দুজনেই শাসক দলের সক্রিয় কর্মী বলে পরিচিত। প্রথমের ব্যবসা রয়েছে। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, এনএনরায় রোডে আসামাত্র হঠাৎই চলন্ত গাড়ির সামনে চারজন এসে পড়ে। তাদের বাঁচাতে গাড়িটি ব্রেক কষেন ওই তরুণ। সঙ্গে সঙ্গে আরও পাঁচজন গাড়িটি ঘিরে ফেলে। গাড়িতে লাথি মারতে থাকে। অভিযোগকারী সামনের কাঁচ খোলা মাত্রই একজন তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি চালানোর হুমকি দেয়। অন্যজন গাড়ির দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে পড়ে।  অভিযোগকারীকে বেধড়ক মারধর শুরু করে দুষ্কৃতীরা। তাঁরা কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না, কেন আক্রান্ত হলেন। এরমাঝে একজন প্রথমের পকেট থেকে মানিব্যাগ কেড়ে নেয়। তাতে থাকা ২৫ হাজার টাকা লুট করে। দুষ্কৃতীদের  অন্য একজন তাঁর সোনার চেন ছিনিয়ে নেয়। মারধর করা হয় অভিযোগকারীর বন্ধু তথা স্থানীয় বিজেপি নেতার ছেলেকে।  প্রকাশ্য রাস্তায় পিস্তল নিয়ে রীতিমতো দাপাদাপি করতে শুরু করে। যা দেখে ভয় পেয়ে যান এলাকার বাসিন্দারা।  কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে খালি হয়ে যায় ব্যস্ততম ওই রাস্তা। রীতিমতো ভয় পেয়ে যান দুজন। তাঁরা ফোন করতে গেলে কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল। প্রায় মিনিট দশেক ধরে দুষ্কৃতীরা পিস্তল উঁচিয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত করে রাখে অভিযোগকারী ও তাঁর বন্ধুকে। হুমকি দেয়, এটা নিয়ে কোথাও অভিযোগ জানিয়ে কোনো লাভ হবে না। এরপর অভিযুক্তরা চলে যায়। অভিযোগকারী  ও তাঁর বন্ধু নিউ আলিপুর থানায় আসেন। তাঁরা গোটা ঘটনা জানান। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ লুট, মারধর, পিস্তল নিয়ে ভয় দেখানো সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে।
তদন্তে নেমে অভিযোগকারী প্রথম সিংকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় যায় পুলিশ। তিনি এলাকা চিহ্নিত করেন। তারপর সেখান থাকা ট্রাফিকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নেওয়া হয়। দেখা যায় চলন্ত গাড়িকে আটকাচ্ছে জনা আট-নয় তরুণ। ফুটেজ দেখে সকলকেই চিহ্নিত করে পুলিশ। জানা যায়, এরা সকলেই এসএনরায় রোডের বাসিন্দা। উঠতি দুষ্কৃতী গ্যাং। তার ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে ওই এলাকায় হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে। তদন্তে উঠে আসছে, অভিযুক্তরাও শাসকদলের নব্য কর্মী। গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর তারা শাসকদলে ভিড়েছে। অভিযোগকারী আদি বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত। রাজনৈতিক কোনো রেষারেষির জেরে এই ধরনের ঘটনা অভিযুক্তরা ঘটিয়েছে কি না, তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।