নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বাংলা দখলের পর কড়া বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বলেছিলেন, ‘এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। দল ও সরকার এক জিনিস নয়।’ স্বাভাবিকভাবেই দলতন্ত্রমুক্ত পুলিশ, প্রশাসনের স্বপ্ন দেখেছিল রাজ্যবাসী। তিন মাসের মধ্যেই উল্টো ছবি! দেখা যাচ্ছে, পঞ্চায়েত, ব্লক ও জেলাস্তরের প্রশাসনিক বৈঠকে বিজেপির স্থানীয় নেতাদের দাপাদাপি। সরকারি অনুষ্ঠানে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি, যুব মোর্চার নেতা থেকে জেলা কমিটির পিছন সারির নেতারাও মঞ্চ আলো করে করে বসে রয়েছেন। তাঁদের জন্য প্রশাসনের বরাদ্দ প্রথম সারির চেয়ার। কোথাও কোথাও প্রশাসনিক কর্তারা তাঁদের চেয়ারে সামনে সেঁটে দিচ্ছেন ‘সমাজসেবী’ তকমা। বরণ করা হচ্ছে সাড়ম্বরে। এমন ছবি নেট দুনিয়ায় ঘোরাফেরা করছে। উঠছে নিন্দার ঝড়। সরব হয়েছে বিরোধীরাও।
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘আরএসএস কোনওদিনই ভারতীয় সংবিধান মেনে নেয়নি। তাদের প্রোডাক্ট বিজেপির এইসব নেতারা। বর্তমান পুলিশ ও প্রশাসনে দলতন্ত্র কায়েম করা হচ্ছে। বিজেপির মণ্ডল কমিটির একজন সদস্যও এখন প্রশাসনের নজরে দরদী সমাজসেবী। ভাবা যায় না!’সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সংবিধানকে বদলে দিতে চায় আরএসএস ও বিজেপি। ফলে এদের থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না।’
যদিও এ বিষয়ে অন্যায়ের কিছু দেখছেন না বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি লক্ষণ ঘোড়ুই। বর্তমানে তিনি দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলের বিধায়ক থেকেও প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পেতাম না। প্রশাসনিক কর্তারা আমাদের ফোনই ধরতেন না। পরিবেশ এখন পাল্টে গিয়েছে। আমরা প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নিই। বিরোধীদেরও সুযোগ দিই। বিরোধীরা এসব বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।’
তৃণমূলের আমলে প্রশাসনিক বৈঠকে অনুব্রত মণ্ডলের উপস্থিতি নিয়ে বারবার বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিজেপি নেতারাই প্রশ্ন তুলতেন।অনুব্রতকে ডব্লিউবিএসআরডিএ’র চেয়ারম্যান বলে বিতর্কের মোকাবিলা করতেন তৃণমূল নেতারা। বিজেপিও ক্ষমতায় আসার পরও সেই সংস্কৃতির কোনো বদল হয়নি। পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির এখনও সেভাবে কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। তা হলেও প্রশাসনিক বৈঠকে বিজেপি নেতাদের নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। যাঁদের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিধায়ক প্রতিনিধি’। তাঁরাই বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন। কিন্তু,প্রশাসনের একটি বৈঠকে কতজন বিধায়ক প্রতিনিধি থাকতে পারেন? সেই প্রশ্নে বিদ্ধ প্রশাসনিক কর্তারাও।