নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার পরও রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধে আদায় করতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য। যা নিয়ে শোরগোল পড়েছে গড়বেতা-২ তথা গোয়ালতোড় ব্লকের পাথরপাড়া পঞ্চায়েতে। জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন পাথরপাড়া পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য উত্তম কারক। তারপর তিনি পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে গিয়ে মেয়ের নামে ‘আনম্যারেড সার্টিফিকেট’ চেয়ে বসেন। উদ্দেশ্য ‘কন্যাশ্রী’ বা ‘রূপশ্রী’-র মতো প্রকল্পে আবেদন করা। সন্দেহ হওয়ায় প্রধান খোঁজখবর করে জানতে পারেন, উত্তমবাবুর মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। শুধু বিয়ে হয়ে গিয়েছে তাই নয়, আদৌ তাঁর মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ আছে পঞ্চায়েতের কর্মচারী ও অন্য সদস্যদের।
প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, উত্তম কারক আগেও একবার তাঁর নাবালিকা মেয়ের বিয়ের তোড়জোড় শুরু করেছিলেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতায় তা রুখে দেওয়া যায়। পঞ্চায়েতের সদস্যরা জানাচ্ছেন, এবারও মেয়েকে প্রায় লুকিয়েই বিয়ে দিয়েছেন উত্তমবাবু। ইতিমধ্যেই ব্লক প্রশাসন তদন্ত শুরু করছে। একবার বিয়ে হয়ে গেলে কোনওভাবেই এইসব প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যায় না।
এদিন গড়বেতা-২ ব্লকের বিডিও দেবঋষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নাবালিকা বিয়ে কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। গড়বেতা-২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু দে বলেন, তৃণমূল, বিজেপি বা সিপিএমের বিষয় নয়। কেউ নাবালিকা বিয়ে দিতে চাইলে বা বেআইনি ভাবে সরকারি সুবিধা পেতে চাইলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এই জিনিস কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। জেলা প্রশাসন নাবালিকা বিয়ে আটকাতে নানা পদক্ষেপ করছে। সেখানে একজন জনপ্রতিনিধির থেকে এই কাজ আশা করা যায় না।
প্রসঙ্গত, জেলাজুড়ে নাবালিকা বিয়ে বাড়ছে। তা রুখতে জেলার প্রতিটি ব্লকে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি করা হচ্ছে। তারপরেও এ ধরনের বেআইনি কাজে জনপ্রতিনিধিরা যুক্ত থাকলে তা জেলা প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জানা গিয়েছে, পাথরপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৩টি আসন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই পঞ্চায়েতের ৮টি আসন যায় তৃণমূলের দখলে, ১টি আসন পান নির্দল প্রার্থী। এছাড়া ৪টি আসন গিয়েছিল বিজেপির দখলে। পঞ্চায়েত সূত্রে খবর, সুন্দরগেড়িয়া এলাকা থেকে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী উত্তম কারক। তিনি মাসখানেক আগে তাঁর নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় তা করতে পারেননি। এরপর দিন কয়েক আগে মেয়েকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেন উত্তমবাবু। বিয়ে হওয়ার পর কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্যের কথায়, খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায় উত্তমবাবুর মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। প্রথম দিকে মানতে না চাইলেও, পরে তিনি তা মেনে নেন। উত্তমবাবু বলেন, মেয়ের ১৮ বছর হওয়ার দু’ দিন বাদে বিয়ে দিয়েছি। পারিবারিক সমস্যা থাকায় অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতে হয়েছে। এই পঞ্চায়েতের প্রধান সোমা মাহাত বলেন, উনি জনমুখী প্রকল্প পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সন্দেহ হওয়ায় খোঁজখবর নিতেই বিয়ে হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। জনপ্রতিনিধিদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।