নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকারে আসার পর কেটেছে ১০০ দিন। এরই মধ্যে তৃণমূল জমানার যাবতীয় দোষে দুষ্ট হতে দেখা যাচ্ছে বিজেপিকে। দলের তৃণমূল স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্য ঔদ্ধত্যে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিষয়টি ইতিমধ্যেই বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতাদের কানে পৌঁছেছে। দলের নীচুতলার নেতা-কর্মীদের কাছে তাই শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়ে বলেছে, আচরণে বিজেপির তৃণমূলিকরণ চলবে না।রাজ্য বিজেপির কোনো নেতাকর্মীর আচরণ যেন তৃণমূলের সময় যেসব অভিযোগ করা হতো, তার সঙ্গে মিলে না যায়। দাদাগিরি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কোনোমতেই ঔদ্ধত্যের বহিঃপ্রকাশ নয়। বর্তমান শাসক দল বিজেপি এবং পূর্বতন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সাধারণ মানুষ যেন খুব সহজেই তফাৎ করতে পারেন সেটা দেখতে হবে।
গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। কিন্তু বাংলায় ক্ষমতায় আসার মাসতিনেকের মধ্যে যেভাবে একের পর এক অভিযোগে বিদ্ধ হতে হচ্ছে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডকে, তাতে আশঙ্কার মেঘই ঘনাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। এর মধ্যে বিজেপি নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি তোলাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই এহেন অভিযোগে একাধিক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব পেয়ে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের একাংশকে আবার দলে ফিরিয়েও নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে এই ইস্যুতে প্রশ্ন দানা বাঁধছে, তা বিলক্ষণ টের পাচ্ছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতারা। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যে অচিরেই বিজেপির ভাবমূর্তি বাংলায় ধাক্কা খাবে, তা দিব্যি বুঝতে পারছেন দলীয় নেতারা। কারণ সেক্ষেত্রে রাজ্যবাসীর একটি বড়ো অংশই বলতে শুরু করে দেবে, পরিবর্তনের লক্ষ্যে তৃণমূলকে সরিয়ে বাংলায় বিজেপিকে নিয়ে আসা হল। অথচ দু’টো দলের মধ্যে কোনো ফারাক চোখেই পড়ছে না।
এহেন অভিযোগ এবং অনুযোগ যাতে না ওঠে, সেই কারণে এবার সর্বস্তরেই আচরণ ঠিক করার পাঠ দিতে মরিয়া হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। অর্থাৎ, বিনম্র হয়ে থাকার বার্তাই পেতে চলেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। জানা গিয়েছে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরামর্শ মেনে রাজ্য নেতৃত্বও ইপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।