পালাবদলের ছবি বাঁকুড়ায়, পুজো কমিটির মাথায় বিজেপি নেতা-বিধায়করা
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: গত বছর পর্যন্ত পুজোয় তৃণমূল নেতানেত্রীদের রমরমা ছিল। জেলার সিংহভাগ বিগ বাজেটের পুজো কমিটির মাথায় কোনো না কোনো তৃণমূল নেতা বা নেত্রী থাকতেন। রাজ্যে পালা বদলের পর সেই চিত্র পুরোপুরি পালটে গিয়েছে। এবার সেই জায়গা দখল করেছেন বিজেপি নেতারা। বিজেপি-র পাড়ার নেতা থেকে বিধায়ক, সাংসদ, জেলা নেতৃত্ব বিভিন্ন পুজো কমিটির সভাপতি অথবা সম্পাদক হয়েছেন। রাজ্যে দল ক্ষমতায় আসার পর যে তাঁরা বেশি গুরুত্ব পেয়েছেন, তা জেলার বিভিন্নপ্রান্তে পুজো কমিটির মাথায় বসা বিজেপি নেতারা স্বীকার করে নিয়েছেন।  

Advertisement

পুয়াবাগান সর্বজনীনে দীর্ঘদিন ধরে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী সভাপতি ছিলেন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি থাকাকালীন অরূপবাবু ওই পুজোর মাথায় বসেন। গত দু’বছর ধরে সভাপতি না থাকলেও অরূপ চক্রবর্তী ওই পুজোর উপদেষ্টা কমিটির প্রধান ছিলেন। এবার পুয়াবাগান সর্বজনীনের সভাপতি হয়েছেন বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। বিধায়ক এখন ওই পুজোর সর্বেসর্বা। বাঁকুড়া শহরের ইন্দারাগোড়া হরেশ্বর মেলা দুর্গাপুজো কমিটির মাথায় বসেছেন বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনিও ওই পুজো সভাপতি হয়েছেন। যদিও উদ্যোক্তাদের দাবি, পুজো শুরুর সময় থেকেই প্রসেনজিৎবাবু ওই কমিটিতে ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন। তবে এবারই তিনি প্রথম সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।  নীলাদ্রিবাবু বলেন, এবারই প্রথম আমাকে পুয়াবাগান সর্বজনীনের সভাপতি করা হয়েছে। তবে এর আগেও আমাকে শহরের বিভিন্ন পুজো কমিটি সম্মান দিয়েছে। গত পাঁচবছর বিধায়ক থাকাকালীন একাধিক কমিটির সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম।  সাংসদ অরূপবাবু বলেন, চিকিৎসার জন্য গত পাঁচ মাস ধরে দিল্লিতে রয়েছি। পুজোয় বাঁকুড়ায় ফেরা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কয়েকটি পুজোর উদ্বোধনের জন্য উদ্যোক্তারা আমার বাড়িতে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। শারীরিক কারণের কথা জানিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বাঁকুড়া জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক মোহন কর বলেন, আমাদের দলের নেতারা একেবারেই গুরুত্ব পাচ্ছেন না, এটা বলা ঠিক হবে না। জেলার বিভিন্ন পুজো কমিটিতে দলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। বর্তমানে জেলায় আমাদের দলের কোনো হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধি নেই। ফলে পুজো উদ্বোধনের নিরিখে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছি। 
চতুর্থী থেকেই বাঁকুড়ায় দুর্গাপুজোর উদ্বোধন শুরু হবে। ওইদিন থেকেই মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। অন্যান্যবার পুজোর মুখে বৃষ্টিতে মণ্ডপ তৈরির কাজ পন্ড হয়। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সময়ে কাজ শেষ করা গিয়েছে। বেশিরভাগ মণ্ডপ উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ফলে উদ্যোক্তারাও উদ্বোধকদের আগাম আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন।  অনুদানের চেক প্রদান।