সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কসবা ল’ কলেজে গণধর্ষণ ও পুলিসের দ্বিচারিতার প্রতিবাদ সহ ন’ দফা দাবিতে সোমবার মল্লারপুর থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করে বিজেপি। সেখানে পুলিসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন দলের বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। তিনি ওসিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, ছাব্বিশের পরে তৃণমূল দলটা উঠে যাবে। যার নীতি, আদর্শ নেই, সেই রাজনৈতিক দলের পদলেহন করে ব্যক্তি চরিত্রকে আপনি খারাপ করবেন না। আজ উপদেশ দিলাম। পরে না মানলে কীভাবে এই পুলিসকে ঠান্ডা করতে হয় দরকারে ডান্ডা ধরতে হলেও বিজেপি কর্মীরা ভয় করবে না। পাল্টা তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, যে দলের দশটা লোক নেই। যারা একটি পঞ্চায়েত, পুরসভায় জিততে পারে না, তাদের এইসব বড়বড় কথা বলে মিডিয়ার সামনে ভেসে থাকা ছাড়া কোনও উপায় নেই।
উল্লেখ্য, মল্লারপুর থানা এলাকার আইন শৃঙ্খলার অবনতি, বেছে বেছে বিজেপির লোকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পুড়ে দেওয়া, তোলাবাজি করে অবৈধ মদের দোকান চলতে দেওয়ার প্রতিবাদ সহ একাধিক দাবিতে এদিন মিছিল করে থানার সামনে আসেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। সীমানা পাঁচিলের গেটে পুলিস ব্যারিকেড করে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের ঠেলে গেট খুলে থানা চত্বরে ঢুকে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি নেতাকর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন বোলপুর ও বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি যথাক্রমে শ্যামাপদ মণ্ডল ও ধ্রুব সাহা, দুবরাজপুর বিধায়ক অনুপ সাহা ও স্থানীয় নেতৃত্ব। দিন কয়েক আগে ডাকাতির অভিযোগে এলাকার বিজেপি নেতার ছেলে সহ তিনজনকে গ্রেপ্তারির তীব্র নিন্দা করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, পুলিস তাঁদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। সেই সঙ্গে বিজেপির কেউ কোনও কাজে থানায় এলে অবমাননা করা হচ্ছে, অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তাঁরা। এরপরই মাইক হাতে ওসি রাজকুমার দাসের নাম নিয়ে ধ্রুব সাহা বলেন, আমরা কিন্তু বলছি না মল্লারপুর থানার পুলিসের চামড়া গুটিয়ে দেব আমরা। কিন্তু পাবলিক বলছে। সেই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিধায়কের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে থানা চালাচ্ছেন। এরপরই তিনি পুলিসকে ঠান্ডা করতে বিজেপি কর্মীরা ডান্ডা ধরতে ভয় করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে শ্যামাপদবাবু বলেন, জনতা যেদিন ক্ষেপে যাবে, সেদিন এই ৫০-৬০টি পুলিস নিয়ে কিছু করতে পারবেন না। তাই সঠিকভাবে কাজ করুন। বীরত্ব দেখাবেন না। পুলিসের হাতে লাঠি আছে, পাবলিকের হাতেও লাঠি থাকবে।