নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় ফের প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল। এবার রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রের পরপর দু’বারের বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডুর বিরুদ্ধে লবিবাজি করে টিকিট নেওয়ার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন দলেরই নেতাকর্মীরা। বিজেপির কেন্দ্রীয়স্তরের তফসিলি উপজাতি মোর্চার ওই নেতার বিরুদ্ধে তৃণমূলের লোকজনের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করে চলারও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফেসবুক ও রানিবাঁধ বিধানসভা বিজেপির নামে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিজেপি কর্মীরা ওই পোস্ট করেছেন। যদিও দলের কোপে পড়ার আশঙ্কায় তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। যদিও ওই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্ব পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। যা নিয়ে জঙ্গলমহলে রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি কর্মী বলেন, ক্ষুদিরামবাবু আজ পর্যন্ত নির্বাচনে জিততে পারেননি। সারা বছর সংগঠনের কোনও কাজও করেন না। অথচ তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধরে বিধানসভা ভোটের টিকিট পেয়ে যান। এলাকায় তাঁর কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিজেপির কর্মীরাই তাঁকে ভোট দেন না। ২০২১ সালে তৃণমূলকে পরাজিত করা শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। তা সত্ত্বেও শাসক দল রানিবাঁধে জয় পেয়ে যায়। ক্ষুদিরামবাবু ফের প্রার্থী হলে বিজেপির বহু নেতাকর্মী ভোটের সময় বসে যাবেন। ক্ষুদিরামবাবু বলেন, আমি বর্তমানে দলের এসটি মোর্চার কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও রাজ্য বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কো-কনভেনর পদে রয়েছি। এসটি মোর্চার রাজ্য সভাপতি হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছি। পরপর দু’বার বিধানসভা নির্বাচনে পদ্ম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। দল আমার মুখ দেখে টিকিট বা পদ দেয়নি। সংগঠনের কাজ না করা লোকজন এসব অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে। আমি যাতে এবার টিকিট না পাই, তারজন্য চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমি সারাবছর রানিবাঁধে থাকি। বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছ’টি মণ্ডলে দলের নির্দেশমতো সংগঠনের কাজ করি।
রানিবাঁধ ব্লক বিজেপির কনভেনর অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, তৃণমূলের হাতে তামাক খেয়ে দলের কর্মীদের একাংশ ক্ষুদিরামবাবুর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কথা বলছেন। দলের অনুমতি না নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির নামে গ্রুপ খোলা হয়েছে। ক্ষুদিরামবাবু একজন শিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
তৃণমূলের রানিবাঁধ ব্লক সভাপতি চিত্তরঞ্জন মাহাত বলেন, অভিজিৎবাবু দলের কাছে নম্বর বাড়ানোর জন্য অযথা নিজেদের গোষ্ঠী কোন্দলে আমাদের জড়াচ্ছেন। বিজেপি কর্মীরাই নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। তারসঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।
উল্লেখ্য, বিজেপির জেলা কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রানিবাঁধ, খাতড়া, সিমলাপাল সহ বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের বেশিরভাগ জায়গায় পদ্ম শিবিরের কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। খাতড়ায় বুথ লেভেল এজেন্টদের প্রশিক্ষণ শিবিরে নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। রানিবাঁধে পার্টি অফিসের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। সিমলাপালে এক নেতা অপর নেতার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেন। সবমিলিয়ে লালমাটির রুখাশুখা জেলায় পদ্ম শুকিয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে।
বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, একসঙ্গে থাকলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ঠোকাঠুকি লাগে। তেমনই দলের মধ্যে সামান্য দ্বন্দ্ব রয়েছে। তা দ্রুত মিটে যাবে।