সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রাজনৈতিক হিংসার আগুনে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি। গত রবিবার রাতে বিজেপির জেলা যুব ওবিসি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রাকেশ প্রামাণিককে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগের তির তৃণমূল কর্মীদের দিকে। বোমার শব্দ এবং স্প্লিন্টারের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই বিজেপি নেতা। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে সাগরদিঘি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত দুখুন মণ্ডল। সোমবার সন্ধ্যায় বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সুর চড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে সাগরদিঘি থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। আসলে কি ঘটেছে, তার তদন্ত চলছে।
জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে নিজের বাড়িতেই ছিলেন রাকেশবাবু। অভিযোগ, সেই সময় অতর্কিতে মনিগ্রাম অঞ্চলের ১২১ নম্বর বুথের পাঁচ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়ে একযোগে হামলা চালায়। রাকেশবাবুকে লক্ষ্য করে সরাসরি বোমা ছোড়া হয়। ঘটনার পরদিন সোমবার সকালেই বিজেপি নেতৃত্বের তরফে সাগরদিঘি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পাঁচজন তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অন্যতম এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে সাগরদিঘি থানার পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই বাকি চার অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে। জেলা বিজেপির তফসিলি মোর্চার সহ সভাপতি জয়ন্ত মণ্ডল বলেন, তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনী আমাদের নেতাকে খুনের চেষ্টা করে। বোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর জখম হয়েছেন। শুনেছি পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শীঘ্রই সব অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করতে হবে। যদিও যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই, এটি নিছকই বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।
মনিগ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান আলিয়ারা বিবির স্বামী তথা তৃণমূল নেতা বলেন, কেউ দোষ করে থাকলে পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করুক। তবে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী, সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা করছে।