সংবাদদাতা, কান্দি: মঙ্গলবার বিজেপির জেলাস্তরের এক নেতার বাড়িতে আশ্রয় চেয়ে এক মহিলার ধর্নায় বসার ঘটনায় তোলপাড় খড়গ্রামের গাঁফুল গ্রাম। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির খড়গ্রামের প্রার্থী হয়েছিলেন আদিত্য মৌলিক নামে ওই অবসরপ্রাপ্ত সেনা। আদিত্য মৌলিক বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা এসসি-এসটি সেলের জেলা সভাপতিও ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মহিলার অভিযোগ, প্রায় দু’ বছর ধরে ওই নেতা তাঁর সঙ্গে অবাধে মেলামেশা ও ঘোরাঘুরি করেছেন। খড়গ্রাম থানার পুলিস মহিলাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা পলাতক। তিনি মোবাইলও বন্ধ করে রেখেছেন। এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি।
এদিন সকাল ন’টা নাগাদ বীরভূমের নলহাটি থানার মেহেগ্রামের বাসিন্দা বছর চল্লিশের ওই মহিলা আদিত্যর বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেন। প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মহিলা আদিত্যর বাড়ির দরজায় টোকা দিতে তাঁর স্ত্রী বেরিয়ে আসেন। তাঁকে বাড়িতে বসতে বলেন। কিন্তু মহিলা বিজেপি নেতার সঙ্গে দেখা করতে চান বলে ঝামেলা জুড়ে দেন। এমনকী এই বাড়িতে তিনি আশ্রয়ও চান। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিজেপি নেতার স্ত্রী মহিলাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর মহিলা বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে পড়েন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফের বিজেপি নেতার স্ত্রী ও শ্বশুরের সঙ্গে ঝামেলা জুড়ে দেন। আদিত্যর শ্বশুর ষষ্ঠী মণ্ডল মহিলার হাত থেকে একটি অ্যালব্যাম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে নাকি মহিলার সঙ্গে বিজেপি নেতার আপত্তিকর ছবি ছিল। মহিলাকে বারবার ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর খড়গ্রাম থানার পুলিস এসে মহিলাকে জয়পুর পুলিস ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। খড়গ্রাম থানার এক অফিসার বলেন, ওই মহিলা এর আগে স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে অন্য থানায় অভিযোগ করেছেন। তাই এদিন নতুন করে ফের অভিযোগ করতে চাননি। অভিযুক্ত বিজেপি নেতার নামে তিনটি ট্রেন ডাকাতির মামলা রয়েছে। একটি মামলায় তার জেল হেফাজতও হয়। সম্প্রতি জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরেন। ধর্নায় বসে মহিলা জানান, দু’ বছর আগে আদিত্যর সঙ্গে তাঁর পরিচয়।