


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ভোটের মুখে তারকেশ্বরে পোয়াবারো তৃণমূলের। হুমায়ুন কবীরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির দুই প্রার্থী আলমগির মিদ্দা ও শেখ শাকিল আলি শুক্রবার যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এর মধ্যে আলমগির দাঁড়িয়েছিলেন তারকেশ্বরে এবং শাকিল আলি পুড়শুড়ায়। তাঁরা এদিন তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রামেন্দু সিংহ রায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা নেন। ফলে হুমায়ুন ঘাসফুলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে যে ফাটল ধরাতে চেয়েছিল, সেই আশা অচিরেই মিলিয়ে গেল। এদিকে, তারকেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী সন্তু পানকে আরও ফাঁপরে ফেলেছেন দলেরই প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি আস্তিকমণি মালিক। তারকেশ্বরে তিনি টিকিট না পাওয়ায় ‘ব্যাট’ হাতে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন নির্দল প্রার্থী হয়ে। উদ্দেশ্য একটাই, নিজের নাক কেটে বিজেপি প্রার্থীর যাত্রা ভঙ্গ করা।
আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীক ‘বাঁশি’। হুমায়ুন কবীরের সেই বাঁশি ছেড়ে আলমগির মিদ্দা ও শেখ শাকিল আলি এদিন শাসকদল তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর রামেন্দু সিংহ রায় বলেন, ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভুল বুঝিয়ে তাঁদের প্রার্থী করেছিলেন হুমায়ুন। সংখ্যালঘু ভোট বিভাজন করতেই বিজেপির মদতে ওই দল তৈরি করা হয়েছিল। তাঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ওই দল ত্যাগ করেছেন এবং তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা দু’জনেই জনতার দুয়ারে গিয়ে ‘বাঁশি’ চিহ্নের বদলে জোড়াফুলে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন জানাবেন। এদিকে ‘ব্যাট’ হাতে ছক্কা মেরে বিজেপি প্রার্থীকে বাউন্ডারির বাইরের পাঠিয়ে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তারকেশ্বরে বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি আস্তিকমণি মালিক। নির্দল প্রার্থী আস্তিকমণির প্রতীক ‘ব্যাট’। এবার তিনি তারকেশ্বর আসনের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। কিন্তু বিজেপি তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় ক্ষোভের কারণেই দল ছেড়ে নির্দল হিসাবে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। এ নিয়ে আবার বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এতদিনের দলীয় নেতা নাকি প্রতীক, ভোটের দিন তাঁরা কোন বোতাম টিপবেন, তা নিয়ে ধন্দে পড়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর ফলে বাড়তি সুবিধা পাবে তৃণমূল।